১৭ জুলাই মধ্য লন্ডনে লেবার পার্টির বিশেষ সম্মেলন থেকে বের হওয়ার সময় অ্যান্ডি বার্নহ্যাম হাত নাড়ছেন।
যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নতুন নেতার দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সেই সঙ্গে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব নিচ্ছেন তিনি। আগামী সোমবার (২০ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে তার দায়িত্ব গ্রহণের কথা রয়েছে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই বার্নহ্যাম তার পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন বলেও জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। তার এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে উত্তর সাগরে নতুন তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান।
যদিও এই সিদ্ধান্ত লেবার পার্টির ২০২৪ সালের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ওই ইশতেহারে নতুন তেল-গ্যাস অনুসন্ধান লাইসেন্স না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও, আগে দেওয়া লাইসেন্সগুলো বহাল রাখার কথা বলা হয়েছিল। খবর বিবিসির।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে স্কটল্যান্ডের রোজব্যাংক ও জ্যাকড নামে দুটি বড় তেল ও গ্যাসক্ষেত্র। কনজারভেটিভ সরকারের সময়ে ২০২২ ও ২০২৩ সালে এসব প্রকল্প অনুমোদন পেলেও ২০২৫ সালে আইনি চ্যালেঞ্জের পর সেই অনুমোদন বাতিল করা হয়।
বার্নহ্যামের নতুন নীতির অংশ হিসেবে পানি ও জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনা এবং নতুন কাউন্সিল হাউস নির্মাণ কর্মসূচির ঘোষণাও আসতে পারে।
তবে নতুন তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এ নিয়ে লেবার পার্টির ভেতরেও মতপার্থক্য রয়েছে।
একদল এমপি বলছেন, তেল ও গ্যাস থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের সময় কর্মসংস্থান ও জ্বালানির মূল্য বিবেচনায় আরও নমনীয় নীতি গ্রহণ করা উচিত।
অন্যদিকে আরেক অংশের নেতা মনে করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোই দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাবে।
বর্তমান জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড রোজব্যাংক প্রকল্পের লাইসেন্সকে জলবায়ুর বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
এদিকে নেতৃত্ব নির্বাচনের আগে তেল-গ্যাস শিল্প এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বার্নহ্যামকে চিঠি দিয়ে উত্তর সাগরের তেল ও গ্যাস শিল্পের প্রতি সমর্থন জানাতে আহ্বান জানিয়েছে।
তাদের দাবি, এই খাতকে সমর্থন করা মানে দেশীয় উৎপাদন, শিল্প এবং দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো।
সম্প্রতি উপনির্বাচনে সংসদে ফিরে আসা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ৩৭৯ জন লেবার এমপি এবং দলের সঙ্গে যুক্ত সব ১১টি ট্রেড ইউনিয়নের সমর্থন পেয়ে দলের নেতৃত্ব নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সোমবার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই নতুন মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো চূড়ান্ত করবেন।



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

