মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম গত চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে এসেছে।
বুধবার (২৪ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৭ সেন্ট বা প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৭৬ দশমিক ৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৩৬ সেন্ট কমে ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৮৫ ডলারে নেমেছে।
এর আগে মঙ্গলবারও উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছিল, যা মার্চ মাসের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ের মধ্যে অন্যতম।
বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি ডলার প্রায় ১২৩ টাকা), আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯ হাজার ৪৩৫ টাকা। প্রতি লিটার হিসেবে এর দাম দাঁড়ায় প্রায় ৫৯ টাকা ৩০ পয়সা।
অন্যদিকে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮ হাজার ৯৬০ টাকা, যা লিটারপ্রতি প্রায় ৫৬ টাকা ৩৫ পয়সার সমান।
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, এগুলো কেবল অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য। এর সঙ্গে শোধন ব্যয়, পরিবহন খরচ, শুল্ক ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হওয়ার পর স্থানীয় বাজারে জ্বালানি তেলের খুচরা মূল্য নির্ধারিত হয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ায় বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। এর ফলে সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা কমে যাওয়ায় তেলের দাম নিম্নমুখী হয়েছে।
মিৎসুবিশি ইউএফজে রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ তোমোমিচি আকুতা বলেন, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কমার ইঙ্গিত এবং তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার ফলে বাজারে চাপ কমেছে। আলোচনায় আরও অগ্রগতি হলে তেলের দাম যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ের দিকে ফিরে যেতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে ওমান ও ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলো ধীরে ধীরে গন্তব্যের দিকে যাত্রা শুরু করেছে।
জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি অন্তত তিনটি সুপারট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এছাড়া যুদ্ধবিরতির পর ওই অঞ্চলে অবস্থানরত জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে আগামী দিনগুলোতেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী থাকতে পারে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

