AB Bank
  • ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

কারচুপির অভিযোগে পদত্যাগ নয়: মমতা


Ekushey Sangbad
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৬:৪৯ পিএম, ৫ মে, ২০২৬

কারচুপির অভিযোগে পদত্যাগ নয়: মমতা

টানা তিন মেয়াদ ক্ষমতায় থাকার পর নির্বাচনে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির কাছে পরাজিত হলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ তুলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।

দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মমতার এই অনড় অবস্থানের কারণে রাজ্যে একটি বিরল সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দায়িত্ব রাজ্যপাল আর এন রবির ওপর পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সোমবার নির্বাচনী ফলাফলে পরাজয়ের ইঙ্গিত পাওয়ার পরপরই এক জরুরি ভিডিও বার্তায় ‘বাঘের বাচ্চার’ মতো লড়াই করার অঙ্গীকার করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের এই মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেছেন, নির্বাচনে তিনি হারেননি; বরং বিজেপি ‘লুটপাটের’ মাধ্যমে ফল ছিনিয়ে নিয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পশ্চিমবঙ্গের এই নেত্রী বলেছেন, ‌‌আমি হারিনি, তাই রাজভবনেও যাব না। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

কী ঘটবে এখন?
মমতার এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনা তৈরি হলেও ভারতের নির্বাচন কমিশন সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতি শাসন জারির প্রয়োজন নাও হতে পারে। বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যদি বিজয়ী দল সরকার গঠনের দাবি জানায় এবং রাজ্যপাল তাদের আমন্ত্রণ জানান তাহলেই সরকার গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্তমান মেয়াদ আগামী ৭ মে শেষ হচ্ছে। ফলে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া গুছিয়ে নিতে বিজেপির হাতে আর মাত্র দুই দিন সময় আছে।

ভোট লুটের অভিযোগ মমতার
গতকাল ভবানীপুর আসনে নিজের একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বর্তমানে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পর মমতা অভিযোগ করেন, এই নির্বাচনে অন্তত ১০০টি আসন চুরি করা হয়েছে। তিনি একে ‘লুট, লুট এবং লুট’ বলে অভিহিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ এনে মমতা বলেছেন, কমিশন ‘নোংরা খেলা’ খেলছে। তৃণমূলের আসল প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি নয়, বরং নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, এভাবেই তারা মহারাষ্ট্র, হারিয়ানা, বিহার এবং এখন বাংলা থেকে নির্বাচন চুরি করেছে।

গণতন্ত্রের সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ৭১ বছর বয়সী এই নেত্রী বলেন, বিচার বিভাগ যখন সক্রিয় থাকে না, নির্বাচন কমিশন যখন পক্ষপাতদুষ্ট হয় এবং সরকার যখন একদলীয় শাসন চায়, তখন বিশ্বের কাছে একটি ভুল বার্তা যায়।

মমতা বলেছেন, একটি ভোটকেন্দ্রে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। যে কারণে গতকাল তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে আসতে পারেননি। তিনি বলেন, আমার পেটে ও পিঠে লাথি মারা হয়েছে। সিসিটিভি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং আমাকে গণনা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। একজন নারী হিসেবে আমার সঙ্গে অভব্য আচরণ করা হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী যদি এমন আচরণ করে, তাহলে আমার আর কিছু বলার নেই। এর আগেও কেন্দ্রে বিজেপি সরকার দেখেছি, কিন্তু এমনটা কখনও দেখিনি।

পরবর্তী কৌশল খোলসা না করলেও মমতা বলেছেন, ‘ইনডিয়া’ জোটের নেতারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। এ ছাড়া তৃণমূলের ওপর হামলা ও কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা তদন্তে পাঁচজন সংসদ সদস্যের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।

মমতার পাশে রাহুল গান্ধী
রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের ঘোর বিরোধী হলেও নির্বাচনের পরপরই মমতার পাশে দাঁড়িয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিজেপিকে ‘ভোট চোর’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, কংগ্রেসের কেউ কেউ এবং অন্যান্যরা তৃণমূলের হারে খুশি হতে পারেন।

কিন্তু তাদের বুঝতে হবে, আসাম ও বাংলার জনমত চুরি করা ভারতীয় গণতন্ত্র ধ্বংসের লক্ষ্যে বিজেপির বড় একটি পদক্ষেপ। ক্ষুদ্র রাজনীতি ভুলে এটি ভারতের স্বার্থে দেখা উচিত।

 

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!