ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে আবারও পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল নিতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরের পর থেকে হঠাৎ করে ক্রেতার চাপ বেড়ে যাওয়ায় রাত ১০টার আগেই দুটি পাম্পে তেলের মজুত শেষ হয়ে যায়। অপর একটি পাম্প জনবল সংকটের কথা জানিয়ে রাত ৮টার পর তেল বিক্রি বন্ধ রাখে। তবে পাম্প মালিকদের দাবি, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই; অতিরিক্ত মজুত করে নেওয়ার প্রবণতার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কোটচাঁদপুরে তিনটি জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এগুলো হলো— দুধসরা সড়কের টোটন ফিলিং স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড এলাকার বেলী ফিলিং স্টেশন এবং কলেজ বাসস্ট্যান্ডের কোটচাঁদপুর ফিলিং স্টেশন। প্রতিদিনের মতো এসব পাম্প থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ করা হলেও বুধবার দুপুরের পর হঠাৎ করেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে।
বিকেলের পর ক্রেতার চাপ আরও বেড়ে যায়। চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে গিয়ে রাত ১০টার আগেই কোটচাঁদপুর ফিলিং স্টেশন ও টোটন ফিলিং স্টেশনের মজুত শেষ হয়ে যায়। অন্যদিকে, বেলী ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জনবল সংকটের কারণ দেখিয়ে রাত ৮টার পর তেল বিক্রি বন্ধ করে দেয় এবং পরদিন সকাল থেকে পুনরায় তেল সরবরাহের ঘোষণা দেয়।
কোটচাঁদপুর ফিলিং স্টেশনের মালিক খন্দকার মোজাম্মেল হক দবি এবং টোটন ফিলিং স্টেশনের মালিক আতিকুর রহমান টিটোন বলেন, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। মানুষের অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তারা বলেন, “যারা নিয়মিত ১০০ থেকে ২০০ টাকার তেল নিতেন, তারাই এখন ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার তেল নিচ্ছেন। অনেকেই আবার মোটরসাইকেল বা গাড়ির ট্যাংক পুরোপুরি ভর্তি করে নিচ্ছেন। এভাবে একসঙ্গে অতিরিক্ত তেল নিলে সাময়িকভাবে সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক।”
এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী সরকার বলেন, পেট্রোল পাম্প মালিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, তেলের কোনো ঘাটতি নেই। তবে প্রতিদিনের তুলনায় অতিরিক্ত সংখ্যক মানুষ তেল নিতে আসায় সাময়িকভাবে কিছু পাম্পে তেল শেষ হয়ে গেছে। বিষয়টি তিনি আরও খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

