রাজশাহীর তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চৌবাড়িয়া হাটের প্রবেশসড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। টানা ভারী ও মাঝারি বৃষ্টিতে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ হাত সড়কে জলাবদ্ধতা ও খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ব্যবসায়ী, যানবাহনের চালক ও সাধারণ মানুষ। দ্রুত সড়কটি উঁচু করে আরসিসি নির্মাণ এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, প্রতি শুক্রবার চৌবাড়িয়া হাট বসে। এটি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ গরু-ছাগলের হাট। হাটে রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে ব্যবসায়ীরা আসেন। হাটে চার দিক থেকে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও তানোর দিকের প্রবেশসড়কের প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ হাত অংশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। কয়েক দফা ভাঙা স্থানে ইট ফেলে সাময়িক মেরামত করা হলেও তা কোনো কাজে আসেনি। বরং বৃষ্টিতে ইটগুলো কাদায় মিশে যাওয়ায় গর্ত চিহ্নিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন শত শত যানবাহন এবং হাটের দিনে হাজার হাজার যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে। কিন্তু বর্তমানে ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে যানবাহন তো দূরের কথা, হেঁটেও চলাচল করা কষ্টকর। এ ছাড়া লবাতলা সেতুর উত্তরে এবং বেলপুকুরিয়া মোড় এলাকাতেও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের শেষ দিকে তানোর উপজেলা সদর থেকে চৌবাড়িয়া হাট পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা হয়। এ প্রকল্পে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তাঁদের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজের কারণে তিন বছরের মধ্যেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং একাধিকবার সংস্কারের পরও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এ বিষয়ে তানোর উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার বলেন, “সড়কটি নির্মাণের পর থেকে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া হাটে প্রবেশের অংশটি নিচু হওয়ায় সেখানে পানি জমে থাকে। সড়কটি উঁচু করে আরসিসি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।”
এদিকে, সম্প্রতি ৩২ লাখ টাকার একটি টেন্ডার নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ঠিকাদারদের দাবি, জুন ক্লোজিংয়ের সময় অতি গোপনে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, উন্মুক্তভাবে টেন্ডার আহ্বান করা হলে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হতো।
স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, প্রকৌশলী, হিসাব সহকারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, এ বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার বলেন, “৩২ লাখ টাকার কোনো গোপন টেন্ডার হয়নি। পাঁচটি প্যাকেজে ইউজিপি প্রকল্পের আওতায় টেন্ডার হয়েছে। টেন্ডারের মাধ্যমে টিন ও সেলাই মেশিন কেনা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এগুলো বিতরণ করা হবে।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

