AB Bank
  • ঢাকা
  • শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

আট কি.মি. সড়কের চার কি.মি. বেহাল, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ


Ekushey Sangbad
টি আই সানি, শ্রীপুর, গাজীপুর
০৬:৪০ পিএম, ১৮ জুলাই, ২০২৬

আট কি.মি. সড়কের চার কি.মি. বেহাল, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের সলিং মোড় থেকে শৈলাট গাজীপুর পর্যন্ত আট কিলোমিটার সড়কের চার কিলোমিটার অংশ (সলিং মোড় থেকে আনন্দবাজার) প্রায় দুই বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। খানাখন্দ, কাদা ও জলাবদ্ধতায় ভরা এ সড়কে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও যানবাহনের চালকেরা। বর্ষা শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। উপজেলার মাওনা ও গাজীপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম, টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালমেঘা এবং ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের কাচিনা গ্রামের হাজারো মানুষের মাওনা চৌরাস্তার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই সড়ক। সামান্য বৃষ্টিতেই এটি কাদাময় জলাশয়ে পরিণত হয়। বড় বড় খানাখন্দে জমে থাকা কাদা-পানির নিচে গর্ত থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রায়ই সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ভ্যান ও অটোরিকশা উল্টে যাচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পোশাক কারখানার কর্মীরা।

কপাটিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাহার আলী বলেন, জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে চলমান বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তাই দ্রুত স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরুর দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদকর্মী মাহফুজুর রহমান ইকবাল বলেন, “এ সড়কটি শুধু একটি রাস্তা নয়, এটি হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের দুর্ভোগ চললেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। দ্রুত সংস্কার এখন সময়ের দাবি।”

অটোরিকশাচালক আব্দুল জব্বার মিয়া বলেন, সড়কের ওই অংশের অবস্থা এতটাই খারাপ যে সপ্তাহে অন্তত দুইবার গাড়ি গ্যারেজে নিয়ে মেরামত করতে হয়। চাকা নষ্ট হয়, বডি ভেঙে যায়। বাধ্য হয়ে একটু বেশি ভাড়া চাইলে যাত্রীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এতে চালকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

আনন্দবাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী ইউনুছ আলী বলেন, প্রতিদিন সকালে মাওনা চৌরাস্তার কাঁচামালের আড়ত থেকে অটোরিকশায় মালামাল আনতে হয়। আগে যেখানে মাওনা থেকে আসতে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লাগত, এখন ভাঙাচোরা সড়কের কারণে অতিরিক্ত প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়াও গুনতে হচ্ছে।

মাওনা পিয়ার আলী কলেজের শিক্ষার্থী রাইসা, সারা, আরাফ ও আদনান বলেন, প্রায়ই অটোরিকশা উল্টে যায়। এতে জামাকাপড়ে কাদা লেগে নষ্ট হয় এবং অনেক সময় কলেজে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাঁদের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে ভাঙা ইট ফেলে দায়সারাভাবে মেরামত করা হলেও তা কোনো কাজে আসেনি। বরং রোলিং না করায় অল্প সময়ের মধ্যেই ইট সরে গিয়ে সড়কটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শৈলাট গাজীপুর বাজারের ফার্মেসি ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এমনকি রোগী ও প্রসূতিদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত চার কিলোমিটার অংশ টেকসইভাবে নির্মাণের দাবি জানান।

শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বলেন, “সরকারের জিওবি মেইনটেন্যান্স (রাজস্ব) খাত থেকে সীমিত বরাদ্দ পাওয়া যায়। প্রতি বছর জুলাই মাসে আমরা বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠাই। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে যতটুকু সম্ভব প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ করা হবে।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!