নওগাঁর মান্দা উপজেলায় কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠপর্যায়ে জোরদার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের হাটর এলাকায় শীব নদীর (জিয়া খাল) চারটি সেতুর মুখ থেকে কচুরিপানা অপসারণের কাজ চলছে। স্থানীয় কৃষকদের ফসল রক্ষা ও পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে পরানপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাটর এলাকায় জিয়া খালের চারটি সেতুর মুখে কচুরিপানা জমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। এতে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ফসলি জমি তলিয়ে যায়। কৃষকদের বর্ষাকালীন ধান রক্ষা এবং নির্বিঘ্নে আমন চাষের সুবিধার্থে গত তিন দিন ধরে সেখানে পুরোদমে কচুরিপানা অপসারণের কাজ চলছে।
৩ নম্বর পরানপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, “স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় জলাবদ্ধতা দূর করতে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২০০ শ্রমিক কচুরিপানা অপসারণের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “কৃষকদের বর্ষাকালীন ধান রক্ষা, আমন ধান রোপণের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং পানিবন্দি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।”
এদিকে, জিয়া খালের কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন মান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আরিফুল ইসলাম।
পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মান্দা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মকলেছুর রহমান, পরানপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আতাউর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তারা জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে, জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সরকারি ও দলীয় উদ্যোগে ত্রাণ ও শুকনো খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। প্রথম দফায় ভালাইন ইউনিয়নের মনোহরপুর, গাংতা ও চুকিনগর এলাকায় ১০০টি পরিবারের মধ্যে উপজেলা যুবদলের উদ্যোগে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতেও সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন, “প্রথম ধাপের পর পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে মানবিক সহায়তার পরিধি আরও বাড়ানো হচ্ছে। কোনো পানিবন্দি মানুষ যেন খাদ্যসংকটে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে যুবদলের নেতাকর্মীরা মাঠে কাজ করছেন।”
মান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আরিফুল ইসলাম জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। খালের পানি নিষ্কাশনের অগ্রগতির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি বরাদ্দ ও জরুরি সহায়তার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

