গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ইজিবাইক চালক শহীদুল মাতুব্বর হত্যার ঘটনায় শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগে ফুঁসছে স্থানীয় জনপদ।
হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা এবং মরদেহ বিকৃত করার অভিযোগে বিচলিত এলাকাবাসী দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
রবিবার (১৪ জুন) সকালে মুকসুদপুর উপজেলা সদরের কমলাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নিহত শহীদুলের পরিবারের সদস্য, স্বজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হত্যাকারীদের ছবি সংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, কমলাপুর গ্রামের নূর হোসেন শেখ মাইকেল ও পলাশ শেখ পরিকল্পিতভাবে প্রতিবেশী শহীদুল মাতুব্বরকে হত্যা করেছে। তারা আরও দাবি করেন, হত্যার পর মরদেহে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে, যা মানবিক মূল্যবোধকে চরমভাবে নাড়া দিয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মিজানুর রহমান, পৌর জামায়াতের আমীর কবির আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
নিহত শহীদুলের পরিবারও কান্নাজড়িত কণ্ঠে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা এখন অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
উল্লেখ্য গত ৬ জুন ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন শহীদুল মাতুব্বর। কয়েকদিন খোঁজাখুঁজির পর ৯ জুন মুকসুদপুর উপজেলার সিন্দিয়া ঘাট এলাকা থেকে তার ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে ১০ জুন নূর হোসেন শেখ মাইকেল ও পলাশ শেখকে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে শহীদুলের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
শহীদুল হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার বিবেককে নাড়া দিয়েছে। এখন মুকসুদপুরবাসীর একটাই প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

