“প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ৬ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যেই রাজশাহী মহানগরীর কোরবানির সব বর্জ্য অপসারণ করতে চাই। ঈদের দিন আমি নিজেও মাঠে থেকে পুরো কার্যক্রম তদারকি করবো।”
-পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
সোমবার (২৫ মে) বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত নগর ভবনের গ্রিন প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি রাসিকের ১ হাজার ২৩৭ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার হিসেবে আর্থিক অনুদান তুলে দেন। প্রত্যেক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৬১ লাখ ৮৫ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই রাসিক প্রশাসক রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগ শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি তাদের শ্রম, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের স্বীকৃতি। এই উপহার তাদের ঈদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে তুলবে।”
মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তিনি যে প্রতিশ্রুতি দেন, তা বাস্তবায়ন করেন। প্রধানমন্ত্রীর একজন কর্মী হিসেবে আমরাও যে প্রতিশ্রুতি দেবো, তা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।”
তিনি আরও বলেন, ঈদুল আযহা উপলক্ষে নগরবাসীর জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো কোরবানির মাংস সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবেশবান্ধব ব্যাগ এবং ব্লিচিং পাউডার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া পশুর চামড়া সংরক্ষণে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় লবণ সরবরাহ, যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তা এবং ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের সহায়তায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা রাজশাহীকে আরও পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর, আধুনিক ও তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।”
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও। পরিচ্ছন্নতাকর্মী সোনালী, ছাবেরা ও কহিনুর বেওয়া বলেন, “এই উপহার পেয়ে আমরা খুব খুশি। ঈদের বাজার ও পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে পারবো।”
পরিচ্ছন্নতাকর্মী রুমন আলী বলেন, “ঈদের আগে এই সহায়তা আমাদের পরিবারের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।”
হাশেম আলী নামের আরেক কর্মী বলেন, “১৫ বছরের চাকরিজীবনে আগে কখনো এভাবে ঈদ উপহার পাইনি। এই সহায়তা আমাদের সংসারের প্রয়োজন মেটাতে কাজে লাগবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন রাসিকের সচিব সোহেল রানা, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন পরাগসহ রাসিকের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

