AB Bank
  • ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী
চট্টগ্রামে হামের প্রকোপ বেড়েই চলেছে

রোগী ফিরিয়ে দিচ্ছে কিছু বেসরকারি হাসপাতাল, চাপে চমেক হাসপাতাল



রোগী ফিরিয়ে দিচ্ছে কিছু বেসরকারি হাসপাতাল, চাপে চমেক হাসপাতাল

চট্টগ্রামে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আসা শিশু রোগীর সংখ্যা। অভিযোগ উঠেছে, সংক্রমণের ভয় ও দায় এড়াতে কিছু বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক হাম আক্রান্ত কিংবা সন্দেহভাজন শিশুদের ভর্তি না নিয়ে সরকারি হাসপাতালে ‘রেফার’ করে দিচ্ছে। ফলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালসহ সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে রোগীর চাপ বেড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শয্যা সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে একটি বেডেই তিন থেকে চারজন শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে এবং দুর্ভোগে পড়ছেন অভিভাবকরাও।

এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বিভাগের সব জেলা বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়। গত ২০ মে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট জেলা সিভিল সার্জনদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “জনস্বার্থ বিবেচনায় বিষয়টি অতীব জরুরি।” সেখানে বলা হয়, কিছু কিছু প্রাইভেট হাসপাতাল হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা না দিয়ে অন্যত্র পাঠিয়ে দিচ্ছে, যার ফলে সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। নির্দেশনায় সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিককে হাম উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনে পৃথক শয্যা ও আলাদা ব্যবস্থাপনার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছি। করোনাকালীন সময়ের মতো এবারও সবাই মানবিক দায়িত্ব পালন করে হাম আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি ও চিকিৎসা নিশ্চিত করবেন বলে আশা করছি।”

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, করোনা মহামারির সময় যেভাবে ডেডিকেটেড হাসপাতাল, আইসোলেশন সেন্টার ও ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছিল, হামের ক্ষেত্রে এখনো তেমন সমন্বিত উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ডা. সুশান্ত বড়ুয়া বলেন,
“হাম পুরনো ও পরিচিত রোগ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আতঙ্ক কম। কিন্তু বর্তমানে আক্রান্ত ও শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। তাই দ্রুত আইসোলেশন সেন্টার ও বিশেষ হাম কর্নার চালু করা জরুরি।”

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার তথ্যমতে, নতুন করে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১ জন। এ নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪৪ জনে। সরকারি ল্যাব পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত ১৫৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৫৯০ জন।

 

একুশে  সংবাদ/ওজি

Link copied!