AB Bank
  • ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

মৌলভীবাজারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৭৪ হাজার ৫৮৪ পশু



মৌলভীবাজারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৭৪ হাজার ৫৮৪ পশু

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলার সাত উপজেলায় কোরবানির জন্য ৬ হাজার ২২৫ খামারে ও বাড়িতে মোটাতাজা করা হচ্ছে ৭৪ হাজার ৫৮৪ টি গবাদি পশু। এর মধ্যে জেলার চাহিদা রয়েছে ৭১ হাজার ৭৭২ টি। উদ্বৃত্ত রয়েছে ২ হাজার ৮১২ গবাদি পশু। বাড়তি লাভের আশায় খামারের পাশাপাশি বাড়িতে বাড়িতে পশুর বাড়তি যতœ আর লালন পালনে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও প্রান্তিক কৃষকরা। জেলার চাহিদার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকার চাহিদা পূরণ করে এখানকার গবাদি পশু। তবে গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে লাভের মুখ দেখা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, বড়লেখা, কুলউড়া, জুড়ী, রাজনগর এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খামারগুলোসহ বাড়িতে বাড়িতে বিভিন্ন প্রজাতির গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া মোটাতাজা করা হচ্ছে।  এবছর জেলায় কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা রয়েছে ৭১ হাজার ৭৭২ টি। প্রস্তুত রয়েছে ৭৪ হাজার ৫৮৪ টি গবাদি পশু। এই চাহিদা মিটিয়ে ২ হাজার ৮১২ উদ্বৃত্ত রয়েছে।

এর মধ্যে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় প্রস্তুত ১৬ হাজার ১৭৮ এবং চাহিদা ১৫ হাজার ৮৪৭, রাজনগর উপজেলায় প্রস্তুত ৮ হাজার ১৬৭ এবং চাহিদা ৭৯১২, কুলাউড়া উপজেলায় প্রস্তুত ১৪ হাজার ৯৬৪ এবং চাহিদা ১৩ হাজার ৮৬৫, বড়লেখা উপজেলায় প্রস্তুত ১২ হাজার ২৩৯ এবং চাহিদা ১২ হাজার ২২৮,কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রস্তুত ৫ হাজার ৭১৩ এবং চাহিদা ৬  হাজার ৬১৫, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় প্রস্তুত ১০ হাজার ৪৯৪ এবং চাহিদা ৮ হাজার ৩৭৩ এবং জুড়ী উপজেলায় প্রস্তুত ৬ হাজার ৮২৮ এবং চাহিদা ৬৭৩২টি পশু।  

খামারিরা বলছেন, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে প্রাকৃতিক খাবার ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। তবে গো-খাদ্যের বাড়তি দামের কারণে তারা এসব পশুর প্রত্যাশিত মূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত। তারা বলেন,  প্রতি বছর গো-খাদ্য ভুসি, ধানের কুড়া, খৈল, খড়, ঘাসসহ গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে প্রতি গরুতে প্রস্তুত খরচ ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে ছোট বড় গবাদি পশুর খামারের মাধ্যমে এ জেলার হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ও আয়ের পথ তৈরি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন খামারে এখন ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই আগাম খামারে গিয়ে পছন্দের পশু কিনে বুকিং দিয়ে রাখছেন। খামারিরাও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে গরুগুলোর ভিন্নধর্মী নামকরণ করেছেন।

মেলভীবাজার সদর উপজেলার কালিয়ারগাঁও গ্রামের ইমাদ মিয়া জানান, এবছর কোরবানির জন্য ১৫টি ষাঁড় প্রস্তুত  করেছি। কিন্তুগো-খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে তাদের এবার বড় ধরনের লোকসান গুণতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন। শ্রীমঙ্গলের খামারি মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, কোরবানির ঈদে বড় তিনটি মহিষ এবং ষাড়সহ ১০টি গবাদিপশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছি। খড়, খইল ও ভুষিসহ সব ধরণের পশুখাদ্যের দাম এখন আকাশচুম্বী। পশু লালন-পালন করতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। যদি কোরবানির হাটে পশুর ন্যায্য মূল্য না পাওয়া যায়, তবে  লোকসান গুনতে হবে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওর সংলগ্ন (জেটি রোড) শ্রীমঙ্গল এগ্রো খামারের ম্যানেজার আরিফ হোসেন হতাশা নিয়ে বলেন, দফা দফায় গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির গবাদি পশু লালন করে আমরা লোকসানের শিকার। বড় ষাঁড় সিলেটের বাজারে বেশি দামে বিক্রি করা যায় না। ঢাকার বাজারে নিয়ে গেলেও প্রতারণার শিকার হতে হয়। গত বছর জেলায় সবচেয়ে বড় গরু খয়েরি-সাদা রঙের মিশেলে ফ্ল্যাকভি জাতের ‘তুফান’ এ ষাঁড়টির আমরা লোকসানে বিক্রি করেছি। বাজারে এর দাম তের লক্ষ হাঁকা হয়েছিল। পরে অর্ধেক দামে বিক্রি করতে হয়েছে। এই ষাঁড়ের উচ্চতা ৫ ফিট ৮ ইঞ্চি এবং লম্বায় প্রায় ১১.৫ ফিট ছিল। ওজন মাপার মেশিনে এর ওজন ১ হাজার ১৫০ কেজি প্রায় ৩১ মণ ছিল। তাই এ বছর আমাদের খামারে বড় এবং বিক্রির মতো পশু প্রস্তুত নেই। গত রোজা ঈদের আগে-পরে মিলিয়ে বিক্রিযোগ্য সব গবাদি পশু বিক্রি হয়ে গেছে। সরকারকে ডেইরি ফার্মের দিকে নজর দিতে হবে। সুযোগ সুবিধা নিশ্চত করতে হবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল খান জানান, স্থানীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই এবার জেলার কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। পাশাপাশি উদ্বৃত্ত পশু অন্যান্য জেলাতেও সরবরাহ করা যাবে। জেলার অধিকাংশ খামারেই দেশীয় পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবহার করে পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। আমরা খামারিদের প্রয়োজনীয় সকল ধরনের পরামর্শ ও কারিগরি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছি। আশা করছি, কোরবানিতে খামারিরা তাদের পশুর ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং লাভবান হবেন।

 

একুশে সংবাদ/যাবিদ

Link copied!