ইতালি গিয়ে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন ছিল তছির ফকিরের। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। মানবপাচারকারী দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় মাফিয়াদের নির্যাতনে প্রাণ হারাতে হয়েছে তাকে। পরিবারের দাবি, প্রায় ৪৮ লাখ টাকা দেওয়ার পরও তাকে বাঁচানো যায়নি।
নিহত তছির ফকির (৪২) মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ঘোষালকান্দি গ্রামের কালু ফকিরের ছেলে। মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে তার মৃত্যুর খবর পরিবার জানতে পারে।
জমি বিক্রি ও ঋণ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়ায় এখন সর্বস্বান্ত পরিবারটি। স্বজনদের একমাত্র দাবি, দ্রুত যেন মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে চায়ের দোকান করে সংসার চালাতেন তছির ফকির। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় প্রায় আট মাস আগে পার্শ্ববর্তী পূর্ব স্বরমঙ্গল গ্রামের কথিত মানবপাচারকারী রফিকুল ইসলাম বাঘার প্রলোভনে পড়েন তিনি। পরে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্ত্রী ও তিন মেয়েকে রেখে বাড়ি ছাড়েন।
প্রথমে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর মাফিয়া চক্রের সদস্যরা তাকে আটক রেখে নির্যাতন চালায় এবং পরিবারের কাছ থেকে আরও ২০ লাখ টাকা আদায় করে।
পরবর্তীতে নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়লে তছিরকে লিবিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার খরচের কথা বলে দালাল চক্র আরও ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেয়। সব মিলিয়ে জমি বিক্রি ও ঋণ করে পরিবারটি প্রায় ৪৮ লাখ টাকা পরিশোধ করে। এরপরও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যুর সংবাদ দেশে পৌঁছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম বাঘার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার পরিবারের সদস্যরাও পলাতক বলে জানা গেছে।
নিহতের ভাই শাহীন ফকির বলেন, “দালাল রফিকুল ইসলাম বাঘার প্রলোভনে পড়ে আমার ভাই ইতালি যাওয়ার জন্য বাড়ি ছাড়েন। পরে লিবিয়ায় মাফিয়াদের নির্যাতনে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং আইসিইউতেও রাখা হয়েছিল। আমরা ভাইকে দেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছিলাম, কিন্তু তারা তা করেনি। শেষ তিনদিন তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগও ছিল না।”
তিনি আরও বলেন, “তিনদিন পর গ্রামের পরিচিত কয়েকজনের মাধ্যমে জানতে পারি, আমার ভাই মারা গেছেন। এখন আমরা মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে দালালদের বিচার চাই।”
এ বিষয়ে রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল হক বলেন, “এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে তারা সহযোগিতা চাইলে মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে রাজৈর থানার ওসি অভিযুক্ত দালালের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। পরিবার অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

