টানা চার দিন ধরে কালবৈশাখি ঝড়, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের প্রভাবে শেরপুরে প্রায় সব উপজেলায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গাছের ডালপালা বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
এতে জেলার শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি গ্রামের মানুষ টানা ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল রাত থেকে শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের পর থেকেই বিশেষ করে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। অনেক এলাকায় টানা ৭৯থেকে ৮৯ঘণ্টা বেশি সময় বিদ্যুৎ নেই। এসব এলাকার বেশিরভাগ সংযোগ পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন।
এতে করে খুব কঠিন সময় পার করছেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ,অন্য দিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় বণ্য হাতির আক্রমণ প্রতিনিয়ত রয়েছে, নেই বিদ্যুৎ, ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন এলাকাবাসী।
হালুয়া হাটি,মালাকোচা, কালিবাড়ী, বালিজুরী খ্রিস্টান পাড়াসহ, বেশ কয়েকটি এলাকায় হাতির আক্রমণে নির্ঘুম রাত পার করছে, হালুয়া হাটি এলাকার আলমগীর হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ নেই চার দিন ধরে, আমাদের এলাকায় হাতি আসে, সবসময়,আমরা পরিবার নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। বালিজুরীর আফাজ বলেন, কারেন্ট নেই, আমাদের, অটোরিকশা চার্জ দিতে পারছি না, সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি, কঠিন সময় পার করছি।
এই বিষয়ে শ্রীবরদী উপজেলার নির্বাহী অফিসার মনীষা আহমেদ বলেন, বিদ্যুতের বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমের সঙ্গে আমার কথা হচ্ছে। বিদ্যুতের সমস্যার সমাধানের বিষয়ে তাকে জানানো হচ্ছে। তারা শুধুমাত্র মুখে বলছে যে ঠিক হবে। এসএসসি পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎ বন্ধ না করার জন্য আমি তাদেরকে বলেছি, কিন্তু তারা বিদ্যুৎ বন্ধ রেখেছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা সমাধানের জন্য কাজ করছি।
উল্লেখ্য, শেরপুর জেলায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় প্রায় ৩ লাখ ২৬ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা গ্রহণ করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জেলার কৃষি, শিক্ষা ও সাধারণ জনজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

