নেত্রকোনায় কেন্দুয়ায় মহাষ্টমীস্নানে পূন্যার্থীদের অষ্টমী স্নানোৎসব ও বারণী মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্নানের কোন ঘাট না থাকায় পূন্যার্থীদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। তাই মহাষ্ঠমীর স্নানকে আরো সুন্দর করতে তাদের দাবি একটি পাকা ঘাট নির্মানের।
কেন্দুয়া থানা পুলিশের সার্বিক নিরাপত্তায় শতশত নরনারী নিরাপদে স্নান করছেন বলে জানান কেন্দুয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মেহেদী মাকসুদ।
বৃহস্পতিবার (২৬মার্চ) ভোরে উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নে গোগ বাজার সাইডুলী নদীর ত্রিবেনী ঘাটে মহাষ্টমীস্নানে পূন্যার্থীদের অষ্টমী স্নানোৎসব শুরু হয়েছে। যা বিকেলেই শেষ হবে।
ইতোমধ্যে নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে যোগ দিতে হাজারো মানুষ অশোকা অষ্টমী উপলক্ষে স্নান উৎসবে অংশ নিয়েছে। এ উপলক্ষে পুণ্যার্থীদের, ভিড় ও পূজা অনুষ্ঠান ছাড়াও অনেকেই পূর্বপুরুষদের আত্মা সন্তুষ্টির জন্য নানা ধর্মীয় ক্রিয়াকলাপ করছে।
অনেক পুরনো এই স্নান উৎসব ঘিরে উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের গোগ বাজার এলাকায় ত্রিবেণী ঘাটে শুরু হয়েছে এক দিনব্যাপী লোক ও কারুশিল্পের মেলা। দূর-দূরান্ত থেকে মেলায় বাঁশ, মাটি, কাঠের বিভিন্ন শিল্প কর্ম ছাড়াও উৎপাদিত ব্যাট, ঢাকঢোল মেলায় উঠেছে।
স্নান উপলক্ষে পাশ্ববর্তী উপজেলা মদন থেকে এসেছেন স্বর্ণালী শিকদার। তিনি জানান, তিনি দুই সন্তান অয়ন্তী ও অন্বেষাকে নিয়ে এসেছেন। এখানে এসে তিনি যমজ দুই কন্যাসন্তানের চুল কেটেছেন। পরে স্নান করে সবাই ফিরে যাবেন।
কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের তাম্বুলি পাড়া থেকে একমাত্র সন্তানকে নিযে এসেছেন শুক্লা পোদ্দার। তিনি জানান, প্রতিবছর তিনি এখানে স্নান উৎসবে আসেন।
স্নান ঘাটে শাঁখা বিক্রি করছেন বাবুল দত্ত। তিনি জানান, তারা পাঁচজন উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের মোজাফরপুর গ্রাম থেকে শাখা বিক্রি করতে এসেছেন। কিন্তু বিক্রি খুব খারাপ।
স্নান উৎসবের আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক সমীর শর্মা রায় জানান, এই স্নান উৎসব প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন। তখন থেকেই এই স্নান উৎসব চলছে। এবারও মেলা ও স্নান উৎসব ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা থাকায় সবাই স্বচ্ছন্দে আসতে পারছে।
স্নানের পুরোহিত জানান, অষ্টমী স্নানের তিথি বৃহস্পতিবার (২৬মার্চ) ভোর ৬টা থেকে বিকেল ৩ টায় শেষ হবে।



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

