চাঁপাইনবাবগঞ্জের জাবড়ী কাজীপাড়া এলাকায় তারাবির নামাজের সময় আপত্তিকর অবস্থায় গোয়ালঘরে এক কিশোর ও কিশোরীকে আটকের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অভিযুক্ত কিশোরকে আটকে বেঁধে রাখে স্থানীয়রা। তবে এই ঘটনার পর ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে আটককারীদের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের জাবড়ী কাজীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃত কিশোর-কিশোরী একই গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে ইমরান আলী (১৭) ও মাহবুব আলীর মেয়ে মানসুরা খাতুন (১৫)। তারা দুজনই জাবড়ী কাজীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ইমরান এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং মানসুরা নবম শ্রেণির ছাত্রী। আটকের পর স্থানীয় তরুণ-যুবকরা আটককৃত কিশোরের মুঠোফোনে থাকা তাদের দুজনের বেশ কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পায়।
স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও মুসল্লিদের সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই দুই কিশোর-কিশোরীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এর আগেও তারাবির নামাজের সময় রাতের অন্ধকারে দেখা করতে যাওয়ার অভিযোগ পায় স্থানীয় বাসিন্দা ও মুসল্লিরা। শুক্রবার জাবড়ী কাজীপাড়া জামে মসজিদে তারাবির নামাজ চলাকালে নামাজ না পড়েই বেরিয়ে যায় ওই কিশোরী। এ সময় সন্দেহ হলে তাদের পিছু নেয় কয়েকজন মুসল্লি। পরে ওই কিশোরীর বাড়ির পেছনে থাকা গোয়ালঘরে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায়। এ সময় কয়েকজন যুবক ও স্থানীয় বাসিন্দা তাদের হাতেনাতে আটক করে।
আটককারীরা জানায়, মেয়েটিকে ছেড়ে দিয়ে তারা ওই কিশোরকে আটক করে বেঁধে রাখে। এ সময় সে দুজনের প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করে এবং ওই কিশোরের ফোনে তাদের দুজনের বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও দেখতে পায় আটককারীরা। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে কোনো সুরাহা না হওয়ায় পরদিন শনিবার (১৪ মার্চ) আটককারী গ্রামের ১০-১২ জন তরুণ-যুবকের নামে শ্লীলতাহানির মামলা করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আটককারীরা জানান, এর আগেও প্রায় এক বছর আগে তাদের দুজনকে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু তখন এর কোনো সালিস হয়নি। এখন আবার যারা আটক করেছে, তাদেরই নানারকম হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে ওই কিশোরীর পরিবার। এমনকি আটককারীদের নামে মামলাও দিয়েছেন মেয়ের বাবা। এছাড়া নিজেদের দোষ ধামাচাপা দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রামের তরুণ-যুবকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি মেয়ের পরিবার। তবে ওই কিশোরীর চাচার দাবি, তারাবির নামাজে গিয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় বাড়ির সামনে এসে হট্টগোল করে এলাকার কয়েকজন যুবক। এ সময় তারা এক কিশোরকে আটকে রেখে আপত্তিকর অবস্থায় থাকার মিথ্যা অভিযোগ তোলে।
এ বিষয়ে কথা বলতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেননি ধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল মালেক। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর জানান, এ ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ১০-১২ জনের নামে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

