ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-মনোনীত প্রার্থী ও দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
এ আসনে মোট ১৬০টি ভোটকেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রার্থী শরীফ উদ্দীন পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯০২ ভোট। ১ হাজার ৮৮৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন মুজিবুর রহমান।
দুই উপজেলার মধ্যে গোদাগাড়ীতে মুজিবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৪৬০ ভোট এবং তানোর উপজেলায় পেয়েছেন ৬২ হাজার ৩২৪ ভোট। এছাড়া তিনি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ২টি।
অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী শরীফ উদ্দীন গোদাগাড়ীতে পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৩৩৬ ভোট এবং তানোরে ৬৫ হাজার ৬৭৪ ভোট। পোস্টাল ভোটে তিনি পেয়েছেন ৮৯২টি।
এ ছাড়া আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-র প্রার্থী আব্দুর রহমান মুহাসেনী (‘ঈগল’) পেয়েছেন ১ হাজার ৮০ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আল সাআদ (‘মোবাইল ফোন’) ৬৫০ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদ-এর প্রার্থী মীর মোহাম্মদ শাহজাহান (‘ট্রাক’) পেয়েছেন ৩৯৬ ভোট।
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, পোস্টাল ভোটে জামায়াত প্রার্থী পেয়েছেন ২ হাজার ২ ভোট এবং বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন ৮৯২ ভোট। এতে চূড়ান্ত ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৮৪ ভোটে।
একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৯৬০টি। এর মধ্যে গোদাগাড়ীতে ১ লাখ ৫১ হাজার ২০৯ এবং তানোরে ৮৬ হাজার ৭৫১ ভোট।
‘না’ ভোট পড়েছে ৭৪ হাজার ৯৪৯টি। গোদাগাড়ীতে ৪২ হাজার ৭৬৩ এবং তানোরে ৩২ হাজার ১৮৬ ভোট।
ফলাফল ঘোষণার পর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান সমর্থকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান খুবই কম হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল তীব্র। বিশেষ করে তানোরে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও গোদাগাড়ীতে জামায়াত প্রার্থীর বড় ব্যবধানই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে। এ ফলাফল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একুশে সংবাদ//এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

