রাজশাহীর তানোর উপজেলায় বৃষ্টির মধ্যেই আরসিসি (রিইনফোর্সড সিমেন্ট কংক্রিট) রাস্তা ও ড্রেনের ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কলমা ইউনিয়নের বিল্লি উত্তরপাড়া এলাকায় গত সোমবার ও মঙ্গলবার এ কাজ করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে নির্মাণকাজের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তারা বৃষ্টির মধ্যে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, গত অর্থবছরে জিওবি মেইনটেন্যান্স প্রকল্পের আওতায় কলমা ইউনিয়নের বিল্লি উত্তরপাড়া জামে মসজিদ থেকে সুলতানের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার আরসিসি রাস্তা এবং ৯০ মিটার ড্রেন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দরপত্রে কাজ পাওয়া ঠিকাদার পরে তা অন্য একজন ঠিকাদারের কাছে হস্তান্তর করেন। বর্তমানে শহরের ঠিকাদার মামুন কাজটি করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, অর্থবছর শেষ হলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা হয়নি। পরে চলতি অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের চাপের মুখে কাজ শুরু করা হয়। তবে শুষ্ক মৌসুমে কাজ না করে বর্ষাকালে নির্মাণকাজ শুরু করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলতি বছরের ৪ জুলাই পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়নি। এরপর থেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। অথচ এই বৃষ্টির মধ্যেই রাস্তা ও ড্রেনের ঢালাইয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, গত সোমবার দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ রাখা হয়নি। বর্তমানে সোলিং ঢালাইয়ের পর রড বসানোর কাজ চলছে। পরে আরসিসি ঢালাই দেওয়া হবে। তাঁদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে প্রয়োজনীয় পরিমাণ নির্মাণসামগ্রীও ব্যবহার করা হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান বলেন, ‘রাস্তা নির্মাণের কারণে আমার বাড়ির পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাবে। এখানে একটি পাইপ দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। আবার বৃষ্টির মধ্যেই ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, এলজিইডির অধীনে মামুন নামের এক ঠিকাদার কাজটি করছেন। প্রায় ২০০ মিটার আরসিসি রাস্তা ও ৯০ মিটার ড্রেন নির্মাণে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার বলেন, ‘গত সোমবার আমি শহরে ছিলাম। শহরে বৃষ্টি হওয়ায় অফিসের এসও রিপনকে বলেছিলাম, বৃষ্টি হলে যেন ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ রাখা হয়। পরে তিনি আমাকে জানান, ওই এলাকায় বৃষ্টি হয়নি।’
এ বিষয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) রিপন বলেন, ‘ঢালাইয়ের সময় বৃষ্টি হয়নি। তাই কাজ করা হয়েছে।’ তবে সোমবার দিনভর বৃষ্টি হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই এলাকায় তখন বৃষ্টি ছিল না।’
কাজটি কোন অর্থবছরের এবং কার নামে বরাদ্দ—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি গত অর্থবছরের প্রকল্প। মামুন নামের একজন ঠিকাদার কাজ করছেন। বরাদ্দ প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকার মতো হতে পারে। বিস্তারিত জানতে অফিসের ফাইল দেখতে হবে।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঠিকাদার মামুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

