অপহরণ ও মুক্তিপণের ঘটনায় কালীগঞ্জে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। তারা মো. হক সাব (২৪) নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। ভিকটিম উপজেলার মূলগাঁও এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল কোম্পানিতে চাকরি করেন।
গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রতিদিনের ন্যায় নিজ কর্মস্থল থেকে ভাড়া বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলে আনুমানিক রাত ৮টার দিকে পৌরসভার মূলগাঁও এলাকার প্রাণ-আরএফএল কোম্পানির ৩ নম্বর গেটের সামনে পৌঁছামাত্র মো. হক সাবকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে মূলগাঁও এলাকার চৌকিদারবাড়ির পেছনে কাঠবাগানে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় প্রাণে বাঁচতে হলে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। ভয়ের কারণে ভিকটিমের সঙ্গে থাকা ৪ হাজার টাকা নিয়ে নেয় অপহরণকারীরা এবং আরও ১০ হাজার টাকা আনতে বলে।
প্রাণে বাঁচতে ভিকটিম মো. হক সাব আসামিদের কথামতো তার স্ত্রী মোসা. রিতাকে মোবাইলে ফোন করে অপহরণের বিষয়টি জানান এবং দ্রুত বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা পাঠানোর অনুরোধ করেন।
ভিকটিমের স্ত্রী স্বামীর অপহরণের বিষয়ে থানায় অভিযোগ করলে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আশরাফুল ইসলাম, এসআই (নি.) মো. মাসুদ রানা শামীম, এসআই (নি.) মাকসুদুল কবির নকীব, এসআই উবায়দুল, এএসআই রফিকুল ইসলাম, এএসআই শফিকুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান পরিচালনা করে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার পৌরসভার দেওপাড়া এলাকার সেভেন রিংস সিমেন্ট কোম্পানির ৫ নম্বর গেট সংলগ্ন সড়ক থেকে মূলগাঁও এলাকার মিঠু পাঠানের পুত্র জাহিদ হাসান (তামিম) (১৯) ও হরমুজের পুত্র সাগর (২৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ভিকটিম মো. হক সাবকে উদ্ধার করা হয়।
আটক দুজনের জবানবন্দির ভিত্তিতে পরবর্তীতে মূলগাঁও এলাকার লোকমান পাঠানের পুত্র মিঠু পাঠান (৪০), ঘোনাপাড়া এলাকার মনজুর মিয়ার পুত্র কনক মিয়া (২১), নাগরী ইউনিয়নের পানজোড়া এলাকার আনিস উদ্দিনের পুত্র সানি মিয়া (২২) এবং মো. টুকু মিয়ার পুত্র জাহিদুল (২৬) কে গ্রেপ্তার করা হয়।
অপহরণের শিকার মো. হক সাব নোয়াখালী সদর থানার ধর্মপুরের হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম খান সাব। তিনি মূলগাঁও এলাকার চৌকিদারবাড়ীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মাসুদ রানা শামীম জানান, এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত মিঠু পাঠানের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, দস্যুতা, চুরি, অপহরণ ও মাদকসহ মোট ১৭টি মামলা রয়েছে। কনক মিয়ার বিরুদ্ধে ডাকাতি, চুরি ও অপহরণ মামলা রয়েছে। অন্য আসামিদের ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩ মাসের সাজা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

