মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-৩ আসন। এ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ৪ জন প্রার্থী।
তারা হলেন-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান (ধানের শীষ), খেলাফত মজলিসের মাওলানা আহমদ বিলাল (দেয়াল ঘড়ি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল মান্নান (দাঁড়িপাল্লা) ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির জহর লাল দত্ত (কাস্তে)।
এ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, রাজনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান
মাওলানা আহমদ বিলালকে মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে। সে হিসেবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল মান্নানের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের কথা ছিল। কিন্তু দলীয় কর্মী-সমর্থকদের বাধার কারনে তিনি নির্ধারিত তারিখে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। ফলে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য মনোনীত প্রার্থী খেলাফত মজলিসের দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের মাওলানা আহমদ বিলালের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য আব্দুল মান্নান।
স্থানীয়রা বলছেন১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অনৈক্যে এই আসনে নির্ভার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম নাসের রহমান।
এদিকে ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে দেয়াল ঘড়ি মার্কার প্রার্থী আহমদ বিলাল পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় নেমেছেন। মাঠে ময়দানে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। শহর ও গ্রামের অলি-গলিতে নির্বাচনী পথসভা, জনসভা, মিছিল, মিটিং ও গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন তিনি।
স্থানীয় ও ভোটারদেের সাথে কথা বলে জানা গেছে এ আসনটিতে বিএনপি প্রার্থী ও দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমানের অবস্থান সুদৃঢ়। দলীয় কোন কোন্দল নেই। সবাই ধানের শীষের পক্ষে একাট্টা। এ অবস্থায় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতাকর্মীদের অনৈক্যের কারণে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অনেকটা নির্ভার। ১১ দলীয় জোটের দুই প্রার্থীর পক্ষে প্রতীক বরাদ্দ হওয়ায় ও জামায়াতের কর্মী সমর্থকরা এখনো জোটের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে না নামায় ভোট দ্বিধাবিভক্ত হবে এটি নিশ্চিত। যদিও দেয়াল ঘড়ি প্রার্থী ও নেতাকর্মী-সমর্থকরা ধারণা করছিলেন শেষ মুহুর্তে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নান ঘোষণা দিয়ে ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। কিন্তু এ ধারণাটি অবশেষে বাস্তবায়ন না হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে।
ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন পোস্ট থেকে জানান দেওয়া হয়েছে দাড়িপাল্লার প্রার্থী জোরালোভাবে এই আসনে প্রচারণায় সক্রিয় হওয়ার।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল থেকেই আব্দুল মান্নানের পক্ষে তার সমর্থকরা প্রচারণায় নামবেন। মাঠপর্যায়ে গণসংযোগের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম জোরদার করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার অনুসারী ও নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট, ছবি ও বক্তব্যে আব্দুল মান্নানের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে প্রচারণার আবহ তৈরি করা হচ্ছে। এসব পোস্টে তাকে ‘জনগণের প্রার্থী’ হিসেবে তুলে ধরে ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে বড় ধরণের একটি গণসংযোগের মাধ্যমে কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন আব্দুল মান্নান। যদিও কর্মসূচির স্থান ও সময় সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে।
এব্যাপারে দাড়িপাল্লার প্রার্থী আব্দুল মান্নানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সাড়া মিলেনি।
১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত ও খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আহমদ বিলাল বলেন, ‘আমাকে জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমার মনোনয়নে জোটের শরীক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী লুৎফুর রহমান কামালী ভাই তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে আমার সাথে গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন। জামাতের আব্দুল মান্নান ভাইও ইনশাল্লাহ আমাদের সাথে আসবেন। আমরা একসাথে মৌলভীবাজারে ইসলামী ঐক্যের প্রার্থীকে বিজয়ী করবো ইনশাল্লাহ।
আমি আশাবাদী যেভাবে গণজোয়ার সৃৃষ্টি হয়েছে আমরা বিজয় আমাদের নিশ্চিত। জনগণের আমানত হলো ভোট। সেই ভোটাধিকারে আমি নির্বাচিত হলে মৌলভীবাজারের দুঃখ মনু নদীর বাঁধ স্থায়ীভাবে নির্মাণ, একটা মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও বিদ্যমান হাসপাাতলের উন্নয়ন, শমসেরনগর এয়ারপোর্ট চালুকরণ, গ্রামীণ অবকাঠামো রাস্তাঘাটসহ মানুষের সকল চাহিদা পূরণের সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাবো।’
জানতে চাইলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান বলেন, ‘ধানের শীষের পক্ষে ভোটের মাঠে গণজোয়ার চলছে। আমি বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। বাংলাদেশের দুটি জেলাকে পর্যটন জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যা একটা হলো কক্সবাজার এবং আরেকটা হলো মৌলভীবাজার। আশ্চর্যজনকভাবে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে কক্সবাজার ও মৌলভীবাজার এই দুটি জেলা আছে যা ‘বাজার’ দিয়ে শেষ হইছে। পতিত স্বৈরাচার সরকার কক্সবাজারের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে কাজ করেছে।
সেখানে এয়ারপোর্ট বলেন, রাস্তা বলেন, রেল লাইন বলেন সমূদয় খাতে উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু মৌলভীবাজারে এর ছিটেফোটা উন্নয়নও হয়নি। যার একমাত্র কারন এটি সাইফুর রহমানের জেলা। অতীতে এ জেলার যতো উন্নয়ন হয়েছে তা বিএনপি সরকারের সময়ই হয়েছে। আর কোন সরকার বৃহৎ পরিসরে কোন উন্নয়ন করেনি। আমি নির্বাচিত হলে অতীতে যেভাবে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করেছিলাম তার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। উন্নয়নের প্রথম ধাপই হলো গ্রামীণ অবকাঠামো। আমাদের গ্রামীণ অবকাঠামোর যে রাস্তাঘাট সেগুলো গত ১৭ বছর ধরে বিপর্যস্থকর অবস্থায় রয়েছে। সেগুলি উন্নয়ন ও সংস্কারে পদক্ষেপ নেব। শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু করার পদক্ষেপ নেব। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এরাকার সকল সমস্যার সমাধানে প্রচেষ্টা চালাবো।’
মৌলভীবাজার-৩ আসনে রয়েছে মৌলভীবাজার পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন এবং রাজনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষ ৮৬ হাজার ২১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ৪৮ হাজার ১৩১ জন, মহিলা ভোটার ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ৪ জন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে দুই উপজেলায় ১৭৫টি স্থায়ী ভোটকেন্দ্রে ৯৩৪টি ভোটকক্ষে (৮৪৭টি স্থায়ী ও ৮৭টি অস্থায়ী) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

