মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মির্জাকান্দা এলাকায় স্বপ্নলোক হাউজিং কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার ১৬ জুন বিকাল ৫.৩০ ঘটিকায় সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়ন মির্জাকান্দা এলাকায় স্বপ্নলোক হাউজিং এর সাইট অফিসের সামনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে ভুক্তভোগী ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, স্বপ্নলোক হাউজিং কোম্পানি আকর্ষণীয় আবাসন প্রকল্পের প্রলোভন দেখিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেছে। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও প্রতিশ্রুত প্লট হস্তান্তর কিংবা প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বক্তারা বলেন, তাদের কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত সুবিধা না পাওয়ায় তারা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ অবস্থায় দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
ভুক্তভোগী শিল্পী আক্তার বলেন, প্রায় ৪ বছর ধরে এই স্বপ্নলোক হাউজিংয়ে প্লট ক্রয় করার জন্য টাকা দিয়ে রেখেছি। আমাদের প্লট বুঝিয়ে দিবে বলে কালক্ষেপন করে আসছে। এখন জানতে পারি তাদের নিজস্ব কোন জমি নাই, তারা আমাদের সাথে প্রতারনা করেছে। এখন তাদের সাথে যোগাযোগ করেও কোন ফল হচ্ছেনা।
মো. বনি নামের আরও একজন ভুক্তভোগী বলেন, আমরা এই স্বপ্নলোক হাউজিং থেকে ৫ টা প্লট বুকিং দিয়েছি এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখ টাকা দিয়েছি। অত্যান্ত দুঃখের সাথে জনাই যে, এই হাউজিং কোম্পানির কাছে বার বার তাগিদ দেওয়ার পরও তারা আমাদের প্লট বুঝিয়ে না দিয়ে সাইট অফিস বন্ধ করে দিয়েছে।
ঢাকার জুরাইনে তাদের মেইন অফিসে গিয়েও তাদের সাথে কোন যোগাযোগ করতে পারছিনা। ফোনে যোগাযোগ করলেও টাকা ফেরত ও প্লট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বললেও তারা বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে থাকেন। তারা অন্যের জমি দেখিয়ে আমাদের সাথে প্রতারনা করে টাকা গুলো নিয়েছে।
ভুক্তভোগী মন্জুরা বেগম বলেন, আমার মেয়ের জামাই মোয়াজ্জেম (মাকসুদার স্বামী) ৩ টা প্লট কেনার জন্য বুকিং দেয় ৪ বছর আগে। এপর্যন্ত আমরা প্রায় ১১ লাখ টাকা দিয়েছি।৷ তারা এখনও প্লট বা জায়গা বুঝিয়ে দিতেছেনা। এখন শুনেছি তাদের নিজস্ব কোন জায়গা নেই। তারা আমাদের সাথে প্রতারনা করে টাকা নিয়ে পালিয়েছে।
স্থানীয় জহিরুল ইসলাম ও সাবেক মেম্বার মোয়াজ্জেম শেখ বলেন, আমরা এই স্বপ্নলোক হাউজিং প্রজেক্টে মার্কেটিংয়ে কর্মরত ছিলাম। বেশ কিছু দিন পর জানতে পারলাম তাদের কোন নিজস্ব ক্রয়কৃত জমি নেই, তাদের প্রতারনা যখন আমাদের দৃষ্টি গোচরে আসে তখন আমরা এই প্রজেক্ট থেকে চাকুরী ছেড়ে দেই। প্রশাসনের প্রতি দবি রেখে আমরা চাই তাদের প্রতারনার স্বীকার ভুক্তভোগীগন যেন তাদের বুকিংকৃত প্লট বুঝে পায় না হলে তারা তাদের জমাকৃত টাকাগুলো বুঝে পায়।
স্হানীয় মো. লোকমান শেখ বলেন, এই স্বপ্নলোক হাউজিং প্রজেক্ট অন্যের জমি দেখিয়ে এই এলাকার অনেক নিরিহ লোকদের কাছ থেকে প্লট বিক্রি করার নামে প্রতারনার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই বিষয়ে আমরা স্হানীয় থানাকে অবগত করেছি ও আদালতে প্রতারনার করে অর্থ নিয়ে প্লট বুঝিয়ে না দেওয়ার কারনে মামলাও করেছি।
কিন্ত তাদের হাত অনেক লম্বা ও ক্ষমতার দাপটে এখনো ধরা ছোঁয়ার বাহিরে রয়েছে। এসময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, মো. লোকমান শেখ, মো. ফয়েজ, মো. দেলোয়ার হোসেন তারা মিয়া, মো. শাহ আলম, ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মোয়াজ্জেম শেখ, মো. বনি, মো. মিজান, মোসাম্মৎ শিল্পী আক্তার, মন্জুরা বেগম, মো. জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত অথবা প্রতিশ্রুত সুবিধা বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা তাদের দাবি-দাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রদানের ঘোষণা দেন। এ বিষয়ে জানতে চেয়ে স্বপ্নলোক হাউজিং এর স্বত্বাধিকারী আব্দুর রউফের সাথে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

