ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়ায় কুড়িগ্রাম-৩ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুব আলম সালেহীর মনোনয়ন চূড়ান্তভাবে স্থগিত ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বিক্ষোভ করেছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সেনা, পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের চত্বরে বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ জামায়াত নেতাদের অসদাচরণের বিষয়টি স্বীকার করেন।
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্র জানায়, জামায়াত প্রার্থী মাহবুব আলম সালেহীর দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, গত শুক্রবার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দ্বিতীয় কার্যদিবসে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়। এতে কুড়িগ্রাম-৩ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী সাত প্রার্থীর মধ্যে জামায়াতের প্রার্থী মাহবুব আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র স্থগিত এবং বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী, বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আব্দুল খালেকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তবে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের বাকি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-৩ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাহবুব আলম সালেহী বলেন,“আজ কাগজপত্র অধিকতর যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা ছিল। তা না করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এই ডিসির অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আমি উচ্চ আদালতে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে আমার মনোনয়নপত্র বৈধ করবো, ইনশাআল্লাহ।”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম রিটার্নিং কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, জামায়াত প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব (ইংল্যান্ডের) থাকায় আইন অনুযায়ী তার প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ ৪ জানুয়ারির মধ্যে তিনি বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল খালেকের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী মোট ভোটারের কমপক্ষে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর থাকতে হয়। এক্ষেত্রে তিনি যে ভোটারদের স্বাক্ষরযুক্ত কাগজপত্র জমা দিয়েছেন, তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাই আইন অনুযায়ী তার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন,“নির্বাচন বিধিমালার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থীরা আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ পাবেন। উচ্চ আদালতে আপিলের মাধ্যমে প্রার্থীরা বৈধতা পেলে সেক্ষেত্রে তাদের নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

