আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া মঈনুল ইসলাম খান ওরফে শান্তর বার্ষিক আয় ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩০ টাকা।
স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে তার মোট সম্পদের মূল্য ৫০ কোটিরও বেশি। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।
নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা ও আয়-ব্যয়ের বিবরণী বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম খান ওরফে শান্তর বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার উত্তর চারিগ্রাম গ্রামে। তিনি ২০০৬ সালের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পিতা মরহুম শামসুল ইসলাম খান ওরফে নয়া মিয়া ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী।
হলফনামার তথ্যমতে, মঈনুল ইসলাম খান বিএসসি (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) ডিগ্রিধারী। পেশা হিসেবে তিনি ব্যবসা ও রাজনীতির পাশাপাশি চাকরি থেকেও আয় দেখিয়েছেন। তার বার্ষিক আয় ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩০ টাকা। এর মধ্যে শেয়ার ও ব্যাংক আমানত থেকে আয় ১ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৩০ টাকা, চাকরি থেকে ২০ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং কৃষিখাত থেকে আয় ৬২ হাজার ৫০০ টাকা।
তার নিজের নামে নগদ অর্থ রয়েছে ৩ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার ২১৬ টাকা এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ৬৪ লাখ ৮৩ হাজার ৯৬৫ টাকা। ব্যাংকে নিজের নামে জমা আছে ৪২ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৪৬ লাখ ১০ হাজার ৯৮৪ টাকা। নিজের নামে শেয়ার রয়েছে ৫১ লাখ ৫৫ হাজার ২৩০ টাকার এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ২১ লাখ ৫১ হাজার ৪৭০ টাকার শেয়ার।
এছাড়া নিজের নামে সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত রয়েছে ১১ কোটি ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৩০ টাকা এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ১০ কোটি ৫৭ লাখ ৪১ হাজার ১৬৪ টাকা। নিজের নামে ১ কোটি ৪০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যের যানবাহন রয়েছে। স্বর্ণের পরিমাণ উল্লেখ না করলেও এর মূল্য অজানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে রয়েছে ১২৫০.০৪৯ শতাংশ কৃষি জমি এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ১৯৩.৯৩ শতাংশ কৃষি জমি। এছাড়া ঢাকায় নিজের নামে একটি অ্যাপার্টমেন্ট, ধানমন্ডি ও চারিগ্রামে পৈত্রিক বাড়ি রয়েছে। স্ত্রীর নামেও ঢাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, অন্যান্য খাতে নিজের নামে সম্পদের মূল্য ২৩ কোটি ৫০ লাখ ২৫ হাজার ৯৪৮ টাকা এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৫ হাজার ২৪২ টাকা। ব্যক্তিগত ও ব্যাংক ঋণ মিলিয়ে তার নিজের নামে ঋণ রয়েছে ৫ কোটি ৫১ লাখ ৪৯ হাজার ৩২৩ টাকা এবং সন্তানের নামে রয়েছে ৩১ লাখ ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত ঋণ।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মানিকগঞ্জ-২ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে তারা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

