জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে শুরু করেন। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি রয়েছে। শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছেন। ভোটারদের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম জানান, শিক্ষার্থীদের বহুদিনের প্রত্যাশিত এই নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অবাধভাবে আয়োজন করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। তিনি বলেন, জকসু নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৪৪৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার রয়েছেন ৮ হাজার ৪৭৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ১৭০ জন। কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১৯০ জন।
কমিশন সূত্র জানায়, ভোটগ্রহণের জন্য মোট ৩৯টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে রয়েছে ১৭৮টি বুথ। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি কেন্দ্র এবং একটি হল সংসদের জন্য আলাদা কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক দল মোতায়েন রয়েছে।
নির্বাচন ঘিরে প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেছে। বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন এবং শেষ মুহূর্তে সমর্থন কামনা করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
দীর্ঘদিন পর এই নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের শূন্যতা কাটবে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও দাবি আদায়ে কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

