পবিত্র ঈদ-উল ফিতরকে সামনে রেখে যেখানে কুয়েতজুড়ে আনন্দ আর উৎসবের আমেজ থাকার কথা, সেখানে বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ঈদের অনাবিল আনন্দ এখন বিপাকে রূপ নিয়েছে অজানা এক আতঙ্কে।
গত কয়েকদিন ধরে এ অঞ্চলের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতিতে প্রবাসীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে গভীর শঙ্কা। বিশেষ করে আকাশপথে যাতায়াত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কড়াকড়ি থাকায় অনেকেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। বাজারের দ্রব্যমূল্যের কিছুটা ঊর্ধ্বগতি এবং কর্মক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রভাবের ভয়ে সাধারণ শ্রমিক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরাও এখন সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।জরুরী কোন কাজ ছাড়া কেউ বাহিরে বের হচ্ছে না।
কুয়েতের বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোতে প্রতিবছর ঈদের আগে বাংলাদেশিদের যে উপচে পড়া ভিড় দেখা যেত, এবার তা অনেকটাই ম্লান। প্রবাসীরা বলছেন, উৎসবের কেনাকাটার চেয়ে তারা এখন খবরাখবরের দিকেই বেশি নজর রাখছেন। অনেকের মনে ভয়, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তাদের কর্মসংস্থান বা দেশে ফেরার পথে কোনো বাধা আসবে কি না।
স্থানীয় প্রবাসীরা জানান, পরিবারকে নিয়ে আনন্দ করার স্বপ্ন ছিল এবার, কিন্তু যুদ্ধের খবরের কারণে এখন সব অনিশ্চিত মনে হচ্ছে। আমরা শুধু প্রার্থনা করছি যেন পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং সবাই নিরাপদে উৎসবে ফিরতে পারে।
কুয়েতে প্রবাসী ব্যাবসায়ীরা জানান,প্রতিবছর ঈদ আসলে পুরো কুয়েত জুড়ে একটা সাঝ সাঝ পরিবেশ বিরাজ করত,ব্যাবসা প্রতিষ্টানে মানুষের উপছে পড়া ভীড় থাকত অথছ চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মানুষজন বাহিরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।ব্যাবসা নিয়ে অনেকেই পড়েছেন বিপাকেও।বেচা কেনায় দেখা দিয়েছে চিরম মান্দা। এমন পরিস্থিতিতে কোন ভাবে দোকানের ভাড়া উঠলেই যেন তাদের হয়।
এ দিকে চলমান যোদ্ধ পরিস্থিতে কুয়েত প্রশাসন ঈদকে সামনে রেখে কড়া নিরাপত্তা জোরদার করলেও প্রবাসীদের এই আতঙ্ক কাটছে না।সেই সাথে পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে স্থানীয় বাংলাদেশ দূতাবাসও।
সবকিছু মিলে এবারের কুয়েত প্রবাসীদের ঈদ যেন পুরোটাই ম্লান করে দিয়েছে যুদ্ধ পরিস্থিতি।সেই সাথে অনেকেই বিমানের টিকেট কিনেও ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়াতেও পড়ছেন বিপাকে।অথছ তারা সবাই দেশে গিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে আনন্দের সাথে ঈদ উদযাপন করার কথা ছিল।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

