রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আজ রোববার (৭ জুন) ঘোষণা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত রায় ঘোষণার জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন।
বহুল আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আসামি সোহেল রানার জবানবন্দি থেকে স্পষ্ট হয় যে, ঘটনার সময় তিনি মাদকের প্রভাবে ছিলেন না। সম্পূর্ণ সুস্থ ও সচেতন অবস্থায় তিনি ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেন।
রাষ্ট্রপক্ষ আরও দাবি করে, আসামির স্ত্রী চাইলে ঘটনাটি প্রতিরোধের উদ্যোগ নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি অপরাধ ঠেকানোর কোনো কার্যকর চেষ্টা করেননি।
এর আগে যুক্তিতর্ক শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না উদ্ভট আচরণ করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাকে জোড় করে ধরে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এক নারী পুলিশ কনস্টেবল থাপ্পড় মারার ভয় দেখান। এর পরে স্বপ্না অনবরত কান্না করতে থাকেন।
যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে মামলার আসামি সোহেল ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্নাকে আদালতে তোলা হয়। এ সময় পিপি আসামিদের শুনানিতে আদালতে রাখার দরকার নেই বলে জানান।
এ সময় বিচারক বলেন, আসামি দুজনকে বলছি। আপনারা যদি এমন আচরণ করেন আমি আপনাদের এখনই কারাগারে পাঠিয়ে দেবো। আজকে আপনাকের বলার কিছু নেই। যুক্তিতর্ক শুনানি হচ্ছে, আপনাদের পক্ষেও বলবে। এরপরে আদালতে শুনানি পুনরায় শুরু হয়।
অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, সোহেলের বিরুদ্ধে আমরা সব অপরাধের ইস্পাতের মতো তথ্য প্রমাণ করতে পেরেছি এবং স্বপ্না অপরাধের কোনো প্রিভেন্ট করেনি। সে লাশ গুমের সহায়তা করেছে ও আসামি সোহেলকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। স্বপ্নাও ধর্ষণ ও হত্যায় সহযোগিতা করেছে।
পিপি বলেন, আসামি ডলারের বিষয়ে যেটা বলেছে-সেটা মামলায় কনফিউশন তৈরির জন্য। কারণ আসামি ১৬৪ ধারায় এমন কথা বলেনি। তখন ডলারের নাম বলেনি।
আসামি ১৬৪ ধারায় কারাগারে যাওয়ার পরে অন্য আসামিদের কুবুদ্ধিতে মামলা দীর্ঘসূত্রিতা করার জন্য এমন কৌশল অবলম্বন করেছে। মামলায় মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টির জন্য এই ধরনের বিভ্রান্তিমূলক কথা বলেছেন। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি পড়ে শুনান এবং বলেন সবাই সবার সাক্ষ্যে সমর্থন করেছেন। সবাই গলাকাটা লাশ দেখেছেন। এখানে কারও দ্বিমত নেই।
এর আগে গত ২৪ মে মামলার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন পুলিশ। এরপরে সিএমএম আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন।
অভিযোগপত্রে আসামি সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে হত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি।
ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে তার মাথা দেখতে পান।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ।
এ ঘটনায় পরের দিন বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। আসামি সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

