গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় ৭জন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছে বলে হাসপাতালের বিভিন্ন সূত্র এবং ওই অঞ্চলের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে। এএফপি। শনিবার (৬ জুন) বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছেন।
ফিলিস্তিনের ইসলামপন্থি আন্দোলন হামাসের কর্তৃত্বাধীনে পরিচালিত উদ্ধারকারী সংস্থা সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, গাজা সিটির `জাওয়াজাত` শরণার্থী শিবিরে ড্রোন হামলায় ছয়জন নিহত এবং আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন। গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালও ছয়টি মরদেহ পাওয়ার কথা জানিয়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য না দিয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা ওই অঞ্চলের ‘সন্ত্রাসীদের’ নিশানা করে হামলা চালিয়েছে।
গাজা সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, শহরটি থেকে দূরে দক্ষিণের অংশে শনিবার সকালে একটি তাঁবুতে চালানো হামলায় মুহান্নাদ ওসমান ফারওয়ানা নামের ২৫ বছর বয়সী এক যুবক নিহত হয়েছেন।
খান ইউনিসের নাসের হাসপাতাল জানিয়েছে, ওই যুবকের মরদেহ এবং বেশ কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে সেখানে নিয়ে আসা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে বলেন, তারা এক সন্ত্রাসীকে নিশানা করেছিল।
নিহত যুবকের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ ফারওয়ানা জানান, হামলাটি তাঁর বাড়ির ছাদের ওপর থাকা তাঁবুতে আঘাত হানে এবং ঠিক তার কিছু সময় পরেই ওই দিনই তাঁর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেন, ‘পুরো পরিবার তাঁর বিয়ে উদযাপনের জন্য প্রস্তুত ছিল। এখন আমরা তাঁর বিয়ের পরিবর্তে জানাজায় অংশ নিচ্ছি।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তা প্রায় প্রতিদিন লঙ্ঘন করার জন্য ইসরায়েল এবং হামাস একে অপরকে অভিযুক্ত করে আসছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৯৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়টি হামাসের অধীনে পরিচালিত এবং এর দেওয়া পরিসংখ্যানকে জাতিসংঘ নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে।
একই সময়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের নিজেদের বাহিনীর পাঁচজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

