ঈদের তৃতীয় দিনেও রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ভিড় ঘরমুখো যাত্রীদের। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে কিংবা ছুটির সুযোগে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে সড়কপথের ভোগান্তি এড়িয়ে নির্বিঘ্নে যেতে রেলপথ বেছে নিয়েছেন অনেকেই।
ঈদের আগে টিকিট না পাওয়া, অতিরিক্ত ভিড় কিংবা সড়কপথের দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কায় অনেকে ঢাকা ছাড়তে পারেননি। ফলে ঈদের পর তারা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দেখা করতে বা ভ্রমণে বের হচ্ছেন।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। প্ল্যাটফর্মজুড়ে যাত্রীদের ভিড়। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেশনে এসে ট্রেনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী জয়নাল আবেদীন জানান, ঈদের আগে সড়কে যানজট এবং ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড় থাকায় তিনি তখন ঢাকা ছাড়েননি। এখন কিছুটা স্বস্তিতেই স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে গ্রামে যাচ্ছেন।
জামালপুরগামী যাত্রী কামরুল ইসলামের অভিজ্ঞতাও প্রায় একই রকম। তিনি জানান, ঈদের আগে ভিড়ের কারণে সন্তান নিয়ে যাতায়াত করা কঠিন ছিল বলে তিনি ঈদের পরের সময়টি বেছে নিয়েছেন।
অন্যদিকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী সাইফুল ইসলাম জানান, ঈদের আগে ট্রেনটির কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে সময়সূচিতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তারপরও সড়কের চেয়ে ট্রেন যাত্রা অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক বলে তিনি মনে করেন।
গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পাশাপাশি অনেকেই ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে ভ্রমণে বের হয়েছেন। পর্যটন গন্তব্যগুলোর ট্রেনেও যাত্রীদের বেশ ভিড় রয়েছে। কক্সবাজারগামী পর্যটন এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী সুমন আহমেদ জানান, তিনি ঈদের আগে খুলনায় গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন।
গতকাল ঢাকায় ফিরে আজ স্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণে যাচ্ছেন। এছাড়া পুরান ঢাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আমির ঈদের ছুটি কাটাতে পরিবার নিয়ে সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে খুলনা যাচ্ছেন। তিনি পরবর্তীতে কুয়াকাটা যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছেন।
সার্বিকভাবে ঈদের তৃতীয় দিনেও কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ছিল যাত্রীদের পদচারণায় মুখর। কেউ আপনজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামে যাচ্ছেন, আবার কেউবা ছুটির অবসর কাটাতে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে পাড়ি জমাচ্ছেন।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

