আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া এক বাবা ও তার শিশুপুত্রকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করেছে চরভদ্রাসন থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেনের দিকনির্দেশনায় থানার সেকেন্ড অফিসার রফিকুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল নদীপথে স্পিডবোটযোগে দুর্গম চর ঝাউকান্দা এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এ সময় মাঝ পদ্মা নদীতে দূরে লাকড়ি আঁকড়ে ধরে দু’জনকে ভাসতে দেখে পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে স্পিডবোট ঘুরিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখতে পায়, লাকড়ি ধরে বাবা ও ছেলে নদীতে হাবুডুবু খাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে থাকা ছোট একটি নৌকা অতিরিক্ত ভার বহন করতে না পেরে ডুবে যায়। কোনো বিলম্ব না করে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে দু’জনকেই জীবিত উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা বাবা ও ছেলে। চর এলাকা থেকে বন কেটে নৌকাযোগে ফিরছিলেন তারা। পথে নৌকাটি ডুবে গেলে তারা নদীতে পড়েন।
পরবর্তীতে কাছাকাছি অবস্থান করা একটি মাছধরা ট্রলার ডেকে তার সহায়তায় ডুবে যাওয়া নৌকাটি চরের দিকে টেনে নেওয়া হয় এবং উদ্ধারকৃত বাবা–ছেলেকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে চরভদ্রাসন এলাকায় একটি বাল্কহেড থেকে নদীতে পড়ে এক শ্রমিক নিখোঁজ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল সাত দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করে। ফলে পদ্মা নদীতে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নতুন নয়।
উদ্ধার অভিযানে সেকেন্ড অফিসার রফিকুজ্জামানের সঙ্গে স্পিডবোটে উপস্থিত ছিলেন কনস্টেবল সবুজ লস্কর, উজ্জ্বল ও নরেশ চন্দ্র।
এ বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন,
“বাংলাদেশ পুলিশ জনগণের সেবায় সর্বদা নিয়োজিত। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এ ধরনের পুলিশি সেবা অব্যাহত থাকবে।”
চরভদ্রাসন থানা পুলিশের এই মানবিক ও সাহসী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও এলাকাবাসী।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

