ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নৈতিক অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমন বক্তব্যের পর সিইসির পদে বহাল থাকার নৈতিক অধিকার তিনি হারিয়েছেন।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, শরিফ ওসমান হাদির ওপর চালানো হামলাকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা যায় না। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে এমন মন্তব্য করা দায়িত্বহীনতার শামিল।
তিনি বলেন, “যে নির্বাচন কমিশন এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে, সেই কমিশনের প্রধানের দায়িত্বে থাকার নৈতিক ভিত্তি থাকে না।”
আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকায় প্রতিরোধমূলক কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও বাংলাদেশবিরোধী সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
ভারতকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, যদি কেউ মনে করে ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশেও আগের মতো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা নির্বাচনী কারসাজি চালানো যাবে—তবে সে ধারণা ভুল প্রমাণিত হবে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে—এমন আস্থা এখন আর দেখা যাচ্ছে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার তার বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষায় আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। জুলাই বিপ্লবকে লক্ষ্য করে যারা গণমাধ্যম, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিচারাঙ্গনে পুরনো রাজনৈতিক ধারাকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধেও গণপ্রতিরোধ জোরদার করা হবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

