ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১, ১০ আষাঢ় ১৪২৮

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

উচ্ছেদ অভিযানের মধ্যেই আটকে আছে ডিএসসিসির কার্যক্রম


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬:৩০ পিএম, ১০ জুন, ২০২১
উচ্ছেদ অভিযানের মধ্যেই আটকে আছে ডিএসসিসির কার্যক্রম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) প্রায় ছয় মাস আগে নকশাবহির্ভূত স্থাপনা অপসারণ হিসেবে গুলিস্তানের সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেট, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ ও জাকের সুপার মার্কেটের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে ।

তখন প্রায় ৯ শতাধিক অবৈধ ও নকশাবহির্ভূত দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই উচ্ছেদ অভিযান পর্যন্তই আটকে আছে ডিএসসিসির কার্যক্রম। প্রায় ছয় মাস অতিবাহিত হলেও এসব মার্কেটের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না ডিএসসিসিকে। আর এই সুযোগে উচ্ছেদ করা দোকনগুলোতে অস্থায়ীভাবে দোকান পরিচালনা করে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। আগের মতোই খোলা জায়গায় যার যার সীমানা অনুযায়ী বসে মালামাল ডিসপ্লে করে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।

                                      Open Photo

গত ৮ ডিসেম্বর এই সব মার্কেটের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করেছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ এর এ, বি ও সি ব্লক (সিটি প্লাজা, নগর প্লাজা ও জাকের প্লাজা), সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের নয় শতাধিক অবৈধ দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত থেকে অভিযান পরিচালনা শুরু করে ডিএসসিসি। মার্কেটের গাড়ি পার্কিং, ফুটপাত, সিঁড়ি, গলি, টয়লেট, লিফটের জায়গায় নকশাবহির্ভূত এসব দোকান নির্মাণ করা হয়েছিল বলে জানানো হয়।

আইন অনুযায়ী পার্কিং বা নকশাবহির্ভূত স্থানে অন্যকিছু নির্মাণের কোন বিধান নেই। এসব অবৈধ দোকানের কারণে মার্কেটটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবৈধ দোকানগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল চাঁদাবাজ বাহিনী। এসব অনিয়ম বন্ধ করতেই অবৈধ দোকানগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ডিএসসিসি। উচ্ছেদ করার পর তা পার্কিং হিসেবে ব্যবহার করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ হলেও ছয় মাসেও এই সব জায়গা ব্যবহারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি সিটি করপোরেশন। এই সুযোগে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করার পরও অস্থায়ীভাবে এসব জায়গায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা অব্যাহত রেখেছে অবৈদ দোকান মালিকেরা। এছাড়া উচ্ছেদ হওয়া অনেক দোকানে ফের সীমানা দেওয়াল নির্মাণ করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন দোকান মালিকেরা।

জাকের সুপার মার্কেটের নিচ তলা ও ২য় তলায় উচ্ছেদ অভিযানের পরও ফের দখল করে অস্থায়ীভাবে জুতার দোকান পরিচালনা করছেন কয়েক জন ব্যবসায়ী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, আমাদের মূল ব্যবসা ছিল এই দোকান। এখানে আমরা খুচরা পাইকারি মালামাল বিক্রি করতাম। কিন্তু সিটি করপোরেশন এগুলো ভেঙে দিয়েছে।

প্রথম দিকে অন্য জায়গায় দোকান নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করলেও পরে যখন দেখলাম সিটি করপোরেশন আর কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করছে না, তখন নতুন করে ভাড়া নেওয়া দোকানের পাশাপাশি এই মার্কেটের নিচ তলা ও ২য় তলায় যেখানে আমার দোকান ছিল, সেখানে অস্থায়ীভাবে মালামাল সাজিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছি।

তিনি আরও বলেন, অনেক বছর এখানে দোকান করি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাস্টমার আসে পাইকারি মাল কিনতে। এটা একটা পরিচিত জায়গা, তাই ফের দোকান দিয়েছি। তবে এটা অস্থায়ী, সিটি করপোরেশন চলে যেতে বললে আমরা চলে যাব। নিচতলা সহ প্রতিটি ফ্লোরেও একইভাবে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের। পাশাপাশি মার্কেটের উচ্ছেদ করা স্থানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, অভিযান পরিচালনা করার পর ভাঙা অংশ, ইট, সুরকি সেভাবেই আছে। সেগুলো অপসারণ করে পুরোপুরি পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রমও পরিচালনা করেনি ডিএসসিসি। এছাড়াও এসব মার্কেটে পার্কিং ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিলেও এর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

জাকের সুপার মার্কেটের নিচ তলায় কাপড়ের দোকানীরা বলেন, হুট করে স্থান পরিবর্তন করা যায় না। অন্য একটি মার্কেটে দোকান নিয়েছি। কিন্তু সেটা পরিচিত করাতেও তো সময় লাগবে। তাই এখানে যেটা আমার দোকান ছিল সেখানে অস্থায়ীভাবে মালামাল সাজিয়ে আমরা ব্যবসা করছি। করপোরেশন তো এই সব খালি জায়গা ব্যবহার করছে না। তাই উচ্ছেদ করা হলেও আমার এখানে বসেছি। এই বিষয় সবাই জানে, সিটি করপোরেশনও জানে। কিন্তু আমাদের কিছু বলছে না, ব্যবসা করার সুযোগ দিয়েছে। আবার অভিযান পরিচালনা করলে তাৎক্ষনিকভাবে আমার চলে যাব। আমাদের সেই প্রস্তুতিও আছে।

                                      Open Photo

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (মার্কেট নির্মাণ সেল) তৌহিদ সিরাজ বলেন, এই মার্কেটগুলোর বেজমেন্টে আমরা পার্কিং নির্মাণ করব। সেই অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রমগুলো চলমান আছে। পার্কিং ছাড়া অন্যকিছু আমরা করতে দেবো না। উচ্ছেদের পরও যারা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছে, আমরা সেগুলোতে দরকার হলে আবার অভিযান পরিচালনা করব। প্রকৌশলী বিভাগ থেকে এই বিষয়ে রিপোর্ট, সিটি করপোরেশনে পাঠিয়ে দেবো। মার্কেটগুলোতে পার্কিং নির্মাণ বিষয়ে আমাদের ইস্টিমেট প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এরপরই আমরা সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করব।

এই সব বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন সম্প্রতি তিনি বলেছিলেন উচ্ছেদ হওয়া মার্কেটের দোকানগুলোর বিষয়ে ডিএসসিসির কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। যেসব মার্কেটে অভিযান পরিচালনা করেছি, সেখানে আমরা দ্রুত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করব। ইতিমধ্যেই প্রকৌশলী বিভাগ প্রাথমিক ভাবে কাজ শেষ করেছে। এখনও যেগুলো মার্কেটের অবৈধ স্থাপনা আছে, সেগুলোও আমরা ভেঙে দেব। নিচে পার্কিং উপযোগী করতে আমাদের ইস্টিমেটও ইতিমধ্যে হয়ে গেছে,যা খুব শীঘ্রই নগর বাসী দেখতে পাবে।

একুশে সংবাদ/রাফি