লিবিয়ার পূর্ব উপকূলসংলগ্ন ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী একটি কাঠের নৌকা ডুবে অন্তত ৫০ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সংঘটিত এ দুর্ঘটনার তথ্য লিবিয়ার দুটি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটি মিসর সীমান্তসংলগ্ন তবরুক শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে এল-বারদা দ্বীপের কাছাকাছি এলাকায় ডুবে যায়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সেখান থেকেই নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্র জানায়, নৌকাটিতে মোট প্রায় ৬০ জন অভিবাসী ছিলেন। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোরে যাত্রা শুরু করার কিছুক্ষণ পরই নৌকাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে থাকা যাত্রীরা মূলত সাব-সাহারা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক।
এর একদিন আগে একই অঞ্চলে পৃথক আরেকটি উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। সে সময় তবরুক উপকূল থেকে চারজন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে লিবিয়ার জলসীমায় ভাসতে থাকা একটি নৌকা থেকে আরও ২৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, ওই নৌকায় মোট ২৮ জন অভিবাসী ছিলেন। দীর্ঘদিন সমুদ্রে আটকে থাকার কারণে তারা চরম খাদ্য ও পানিসংকটে পড়েন। চিকিৎসার অভাব এবং মানবেতর পরিস্থিতির কারণে চারজনের মৃত্যু হয়। জীবিতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপগামী অনিয়মিত অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। সংঘাত, দারিদ্র্য ও সহিংসতা থেকে বাঁচতে সাব-সাহারা আফ্রিকার বহু মানুষ লিবিয়ায় এসে ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তবে এই বিপজ্জনক যাত্রায় প্রতিবছর বহু মানুষ প্রাণ হারান বা নিখোঁজ হন।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসেও তবরুক উপকূলের কাছে আরেকটি নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ২৬ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করেছিল লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: রয়টার্স
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

