AB Bank
  • ঢাকা
  • রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা


Ekushey Sangbad
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০:৩৯ এএম, ১২ জুলাই, ২০২৬

হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের দাবি সামনে এসেছে। এরই মধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আইআরজিসির হামলার অভিযোগের পর ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় চলতি সপ্তাহে তৃতীয় দফা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

মার্কিন পক্ষের দাবি, সাম্প্রতিক কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ধারাবাহিকতায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষ গুরুতরভাবে নষ্ট হয়ে গেছে এবং একজন বেসামরিক নাবিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম অভিযোগ করেছে, ইরানকে সমঝোতার সুযোগ দেওয়া হলেও তারা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। একইসঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের জবাব দেওয়া হবে।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, অনুমোদিত নৌপথের বাইরে চলাচলের চেষ্টা করায় একটি জাহাজ লক্ষ্য করে নৌবাহিনী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এরপর নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বারবার সতর্ক করার পরও সংশ্লিষ্ট জাহাজ নির্দেশনা না মানায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, প্রণালি বন্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

এর আগে ওমান উপসাগরসংলগ্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশ করা রুটে চলাচলকারী তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের জলসীমা ব্যবহার করেই সবচেয়ে নিরাপদভাবে নৌযান চলাচল করা সম্ভব। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী মার্কিন হামলায় ১৭ জন নিহত এবং অন্তত ১১৫ জন আহত হন। এরপর ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়।

ঘটনার জেরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সাম্প্রতিক হামলার মাধ্যমে কার্যত দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে মার্কিন গণমাধ্যমের কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান অনানুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে যে তেলবাহী জাহাজে হামলার পেছনে তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটি গোষ্ঠী দায়ী ছিল। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থানে পরিবর্তন আসবে না।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!