হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের কাছ থেকে প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে শুরু হওয়া কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার ওমানে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানান, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। তবে তিনি একই সঙ্গে দাবি করেন, দুই দেশের মধ্যে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘটেছে। যদিও শুক্রবার ও শনিবার ভোর পর্যন্ত নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
ওমান দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার শনিবারের আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি।
অন্যদিকে ইরানের ফার্স বার্তা সংস্থা একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান থেকে সরে না আসা পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না।
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, চুক্তি কার্যকর রাখতে হলে উভয় পক্ষকেই নিজেদের প্রতিশ্রুতি সমানভাবে পালন করতে হবে।
সপ্তাহের শুরুতে কাতার ও সৌদি আরবের তিনটি বাণিজ্যিক ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালায়। জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। যদিও জাহাজে হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি তেহরান। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেই ইরান এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ইরান তাদের জানিয়েছে- সাম্প্রতিক জাহাজে হামলাগুলো দেশটির রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার একটি ‘বিচ্ছিন্ন অংশের’ কর্মকাণ্ড। তাদের মতে, উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যেই এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, ইরান আলোচনার আগ্রহ দেখিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাতে সম্মত হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে ইরান এ দাবি নাকচ করে দিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অনুরোধ তেহরান করেনি; বরং কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের স্বাগত জানিয়েছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ওয়াশিংটনকে এমন গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে, যাতে ট্রাম্পকে হত্যার একটি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ রয়েছে। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইরান।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান প্রকাশ্যে ঘোষণা দিক যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বন্ধ করা হবে এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে কোনো ধরনের বাধা বা অতিরিক্ত শর্ত ছাড়াই সব জাহাজ চলাচল করতে পারবে।
বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তাই এ অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের পতনের পর গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সূত্র: রয়টার্স
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

