AB Bank
  • ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

কিয়েভে নজিরবিহীন হামলা, নিহত বেড়ে ১৮


Ekushey Sangbad
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০:৪১ পিএম, ২ জুলাই, ২০২৬

কিয়েভে নজিরবিহীন হামলা, নিহত বেড়ে ১৮

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং প্রায় ৯০ জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। হামলার পর শুক্রবার (৩ জুলাই) শোক দিবস ঘোষণা করেছেন কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো।

মেয়র ক্লিচকো বলেন, এটি কিয়েভের ওপর চালানো সবচেয়ে বড় হামলা। যদিও এর আগের কয়েকটি হামলায় মৃত্যুর সংখ্যা বেশি ছিল, তবে এবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একযোগে সর্বাধিক সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। খবর বিবিসির।

হামলায় কিয়েভের একাধিক আবাসিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব কিয়েভের একটি বহুতল ভবনের বড় অংশ ধসে পড়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন।

দারনিৎসকি জেলায় দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র একটি কিন্ডারগার্টেনের পাশে বিশাল গর্ত সৃষ্টি করে, আরেকটি নয়তলা ভবনের একাংশ ধসিয়ে দেয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভবনের বেজমেন্টে আশ্রয় নেওয়া কয়েকজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

হামলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, হামলাটি ১১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কয়েক দফায় চালানো হয়। প্রথমে ড্রোন হামলায় কিয়েভের ঐতিহাসিক এলাকায় একটি হোটেলে আগুন লাগে। এরপর রাত ১টার দিকে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। কিছুক্ষণ বিরতির পর আবার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভোর পর্যন্ত ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকে।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া এক রাতে ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪৯৬টি ড্রোন ছুড়েছে, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল কিয়েভ। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করলেও ২৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২টি ড্রোন রাজধানীর ৩৩টি স্থানে আঘাত হানে।

হামলায় আহত স্থানীয় বাসিন্দা ওলেক্সি বলেন, রাশিয়ার দাবি সত্য নয়। এটি ইউক্রেনের হামলার প্রতিশোধ নয়। যুদ্ধ শুরু করেছে রাশিয়াই। এটি একটি আবাসিক এলাকা, আর তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে।

আরেক বাসিন্দা সভিতলানা জানান, এর আগেও রুশ হামলায় তিনি আহত হয়েছেন, তার মা নিহত হয়েছেন এবং পরে যুদ্ধে তার ছেলেও প্রাণ হারিয়েছেন।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্প সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। মস্কোর ভাষ্য, রাশিয়ার বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত কিয়েভ সরকারের ওপর চাপ বাড়ানো হবে। ইউক্রেন এ হামলাকে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ বলে আখ্যা দিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, আগ্রাসী রাষ্ট্র ও আত্মরক্ষাকারী রাষ্ট্রকে এক কাতারে দাঁড় করানো অনৈতিক। রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক এলাকায় হামলা চালাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মিত্র দেশগুলোর প্রতি আরও উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ারও অনুরোধ করেছেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিয়েভে রাশিয়ার হামলার ধরন বদলেছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, হামলার সংখ্যা কিছুটা কমলেও প্রতিটি অভিযান এখন দীর্ঘস্থায়ী, আরও শক্তিশালী এবং বিস্তৃত এলাকাজুড়ে পরিচালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনও সাম্প্রতিক সময়ে মস্কো থেকে কৃষ্ণসাগর উপকূল পর্যন্ত রাশিয়ার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে দূরপাল্লার হামলা জোরদার করেছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!