AB Bank
  • ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

বোয়ালখালীতে বন্যায় ১৮৮ হেক্টর ফসলি জমি , সাড়ে ৫ কোটি টাকার মাছের ক্ষয়ক্ষতি



বোয়ালখালীতে বন্যায় ১৮৮ হেক্টর ফসলি জমি , সাড়ে ৫ কোটি টাকার মাছের ক্ষয়ক্ষতি

টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে কৃষি ও মৎস্য খাতে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার ১৮৮ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে প্রায় ৭০ শতাংশ পুকুর ও মাছের খামার প্লাবিত হওয়ায় ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার মাছ। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক ও মৎস্যচাষিরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে বোয়ালখালীতে ২৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের বীজতলা এবং ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্যোগের আগে ৫৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করা হলেও তার বেশিরভাগই বর্তমানে পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।

এ ছাড়া বন্যার পানিতে ২৩ হেক্টর আউশ ধান ও ১১০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজিক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় এখনও পানি জমে থাকায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রোববার (১৯ জুলাই) উপজেলার চরনদ্বীপ, পোপাদিয়া, শ্রীপুর-খরণদ্বীপ, আমুচিয়া, করলডেঙ্গা, সারোয়াতলী, শাকপুরা ও পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উঁচু জমি থেকে পানি নামতে শুরু করলেও নিম্নাঞ্চল এখনো প্লাবিত রয়েছে।

পোপাদিয়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর এলাকার কৃষক রমজান জানান, ৩০ কানি জমিতে আমন চাষের জন্য বৃষ্টির তিন দিন আগে ১৫ আড়ি ধানের বীজতলা প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে পুরো বীজতলা তলিয়ে গেছে। এখন নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে অতিরিক্ত অর্থ ও শ্রম ব্যয় করতে হবে। এতে আমনের আবাদও পিছিয়ে যাবে।

আমুচিয়া ইউনিয়নের মৎস্যচাষি বেলাল জানান, দুই কানি পুকুরে মাছ চাষ করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যার পানিতে তাঁর সব মাছ ভেসে গেছে। এতে তাঁর প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

একই ধরনের ক্ষতির কথা জানিয়েছেন আমুচিয়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল জলিল, মাসুদ নিহাল করিমসহ আরও অনেক কৃষক।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাহানুর ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টিজনিত ফসলের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। বর্তমান পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।’

অন্যদিকে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালখালী পৌরসভাসহ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার ১০০টি ছোট-বড় মাছের পুকুর রয়েছে। এর মধ্যে প্রদর্শনী পুকুরসহ প্রায় ৯৫০টি পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে মৎস্য খাতে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাঈম হাসান বলেন, ‘টানা ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ পুকুর ও মৎস্য খামার পুরোপুরি বা আংশিক তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। উপজেলা মৎস্য দপ্তর নিয়মিত ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের খোঁজখবর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।’

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!