সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আল-শাদ্দাদি শহরে তীব্র সংঘর্ষের মধ্যে আইএস (আইএসআইএল) সংশ্লিষ্ট বন্দিরা একটি কারাগার থেকে পালিয়ে গেছে। ঘটনার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুরো শহরে কারফিউ জারি করেছে সিরীয় সরকার। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা এ তথ্য জানিয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় আল জাজিরা আরবিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সিরীয় সেনাবাহিনী জানায়, বর্তমানে আল-শাদ্দাদি শহর এবং সংশ্লিষ্ট কারাগারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রয়েছে। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের গ্রেপ্তারে শহর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
সিরিয়ান অপারেশনস অথরিটি জানায়, অভিযান শেষে আল-আকতান কারাগারসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোর নিয়ন্ত্রণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সংস্থাটি দাবি করেছে, কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) পরিকল্পিতভাবে আইএস সদস্যদের মুক্ত করে দিয়েছে। তবে সেনাবাহিনী পালিয়ে যাওয়া বন্দির সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
অন্যদিকে এসডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সিরীয় সেনাবাহিনীর হামলার ফলে তারা কারাগারের নিয়ন্ত্রণ হারায়। তবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে সিরীয় সেনাবাহিনী। এসডিএফের দাবি অনুযায়ী, আল-আকতান কারাগার ঘিরে সংঘর্ষে তাদের অন্তত ৯ সদস্য নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।
এসডিএফ আরও অভিযোগ করেছে, কাছাকাছি অবস্থান করা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আইএসবিরোধী জোটের ঘাঁটির কাছে একাধিকবার সহায়তা চাওয়া হলেও তারা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি।
এই ঘটনার এক দিন আগেই সিরীয় সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে এসডিএফ দেশের কয়েকটি এলাকা ছাড়তে সম্মত হয়েছে। ২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকারের জন্য এটিকে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (১৮ জানুয়ারি) এসডিএফ রাক্কা ও দেইর আজ-জোর অঞ্চল থেকে সরে যেতে সম্মত হয়। এই দুই অঞ্চলেই সিরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্র অবস্থিত, যা দীর্ঘদিন ধরে এসডিএফের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
এসডিএফের প্রধান কমান্ডার মাজলুম আবদি—যিনি মাজলুম কোবানি নামেও পরিচিত—যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার দামেস্ক সফরের কথা ছিল।
আল-শাদ্দাদি হাসাকা প্রদেশে অবস্থিত, যার বড় একটি অংশ এখনো এসডিএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই অঞ্চলের বিভিন্ন কারাগার ও শিবিরে আইএস সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটক হাজার হাজার বন্দিকে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ইরাকে এবং দুই বছর পর সিরিয়ায় আইএস সামরিকভাবে পরাজিত হলেও সংগঠনটির গোপন সেলগুলো এখনো দুই দেশেই সহিংস হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

