AB Bank
  • ঢাকা
  • সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

এক সেতুতেই পাঁচ বছর: সামুক গতিতেই চলছে নির্মাণকাজ



এক সেতুতেই পাঁচ বছর: সামুক গতিতেই চলছে নির্মাণকাজ

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর সীমান্তঘেঁষা সৈয়দখালী খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে শ্রীপুর-খরণদ্বীপ, চরণদ্বীপ ও আশপাশের এলাকার মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুটি এখনও যান চলাচলের উপযোগী হয়নি। সর্বশেষ নির্ধারিত সময়সীমাও আট মাস আগে শেষ হয়েছে। অথচ সেতুর মূল অংশের ডেক স্ল্যাবের ঢালাই কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, সেতুটি চালু না হওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঠ ও বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এ দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ বলেন, বছরের পর বছর ধরে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও কাজের গতি অত্যন্ত ধীর। ফলে শ্রীপুর-খরণদ্বীপ, কেরানীবাজার ও চরণদ্বীপ ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষকে বিকল্প দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪২ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২২ সালের অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে তাদের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজ পায় আরেকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে তারাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর পিলার ও গার্ডার নির্মাণ শেষ হলেও ডেক স্ল্যাবের ঢালাই কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। ফলে সেতুটি চালুর কোনো বাস্তব সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও নির্মাণকাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

চরণদ্বীপের বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, “প্রতিবারই শুনি সেতুর কাজ শেষ হবে। কিন্তু বছর যায়, কাজ আর শেষ হয় না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, রোগী ও বয়স্ক মানুষকে।”

স্থানীয় প্যানেল চেয়ারম্যান হাসান চৌধুরী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, তদারকির ঘাটতি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রনী সাহা বলেন, “কাজের অগ্রগতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে জরিমানা কিংবা চুক্তি বাতিলের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।”

পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা সৈয়দখালী সেতু এখন স্থানীয়দের কাছে উন্নয়ন প্রকল্পের চেয়ে অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। নির্ধারিত সময়ের পরও কাজ শেষ না হওয়ায় দুই পাড়ের মানুষের প্রশ্ন—আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে এই সেতুর জন্য?

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!