পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানী ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়েছে। কর্মজীবী মানুষের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ীও ঈদ উদযাপনে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয়ের উপস্থিতি কমেছে। এর মধ্যেই সবজি, মুরগি ও ডিমের বাজারে স্বস্তির চিত্র দেখা যাচ্ছে।
রোববার (৩১ মে) রাজধানীর মুগদা ও মানিকনগর এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজির দোকান বন্ধ থাকলেও খোলা দোকানগুলোতে তুলনামূলক কম দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে যেসব সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলো এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
বাজারে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে ঢেঁড়শ, যার কেজি ৪০ টাকা। এছাড়া পেঁপে, সাদা বেগুন, চিচিঙ্গা, পটল, ঝিঙে, ধুন্দল ও উস্তা প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করলা, কাঁকরোল, বরবটি ও গোল বেগুনের কেজি ৮০ টাকা। লাউ আকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং কাঁচা আম ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ঈদের সময় সাধারণত কাঁচা মরিচ, শসা, টমেটো, গাজর ও লেবুর চাহিদা বাড়লেও এবার এসব পণ্যের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে টমেটো প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং গাজর ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়।
মুগদা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী এহসানুল করিম জানান, ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরে তিনি আগের তুলনায় কম দামে সবজি কিনতে পেরে স্বস্তি পেয়েছেন।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, নতুন সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ক্রেতা কম থাকায় অনেক পণ্যের দাম কমেছে। বিক্রেতারা তুলনামূলক কম লাভে পণ্য বিক্রি করছেন।
এদিকে ঈদের পর মুরগির বাজারেও দাম কমেছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের আগে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত ছিল। একইভাবে সোনালি মুরগির কেজি ৩৬০ টাকা এবং কক মুরগি ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগি বিক্রেতারা জানান, কোরবানির ঈদের পর কয়েকদিন মুরগির চাহিদা কমে যায়। ফলে খামার পর্যায়ে দাম কম থাকায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
ডিমের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বর্তমানে ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের আগে ১৫০ টাকা পর্যন্ত ছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এবং চাহিদা না বাড়লে আগামী কয়েকদিন সবজি ও পোলট্রি পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকতে পারে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

