রাজশাহীর তানোর উপজেলায় মোবাইলে জুয়া খেলা দেখে ফেলায় এক স্কুলছাত্রকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে আটকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আহত ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনাটি শনিবার উপজেলার কলমা ইউনিয়নের চন্দনকোঠা গ্রামে ঘটে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীর বাবা মুকসেদ বাদী হয়ে একই গ্রামের মতিনের বিরুদ্ধে তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আহত জুবায়ের হোসেন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার মতিন মোবাইল ফোনে জুয়া খেলছিলেন। এ সময় ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জুবায়ের বিষয়টি দেখে ফেলেন। অভিযোগ রয়েছে, পরে মতিন জুবায়েরকে জোর করে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে গিয়ে আটকে বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। তার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত জুবায়ের হোসেন বলেন, “জুয়া খেলা দেখে ফেলায় আমাকে আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে। আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।”
জুবায়েরের বাবা মুকসেদ বলেন, “আমার ছেলের একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল সে জুয়া খেলার ঘটনা দেখে ফেলেছিল। এ কারণে তাকে অমানবিকভাবে মারধর করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, অভিযুক্ত মতিন দীর্ঘদিন ধরে মোবাইলে জুয়া খেলার সঙ্গে জড়িত। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার সকালে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

