মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হঠাৎ করে চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মোটরসাইকেল চুরি বেড়ে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল শহরের স্টেশন রোডস্থ খাতুন ম্যানশনে গভীর রাতে দুর্র্ধষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙে একাধিক দোকানে প্রবেশ করে নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে সীমান্ত প্লাস পয়েন্ট, সারধা টেলিকম ও আইডল ফ্যাশন। দোকান মালিকদের দাবি, দোকান থেকে ক্যাশ টাকা, মোবাইল ফোন ও বিপুল পরিমাণ মালামাল চুরি কওে নিয়ে যায় চোরেরা।
একই রাতে শহরের উকিল বাড়ি রোডের বাসিন্দা দুলাল মিয়ার বসতবাড়ি থেকে নগদ টাকা, টেলিভিশন ও মুল্যবান বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শহরের স্টেশন রোডের সন্ধ্যা ফার্মেসিতে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা দোকানের উপরের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দোকান থেকে আইপিএস, ব্যাটারি, ইনভেটার মেশিনসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
গত শুক্রবার সন্ধায় শ্রীমঙ্গল শহরের হবিগঞ্জ রোডের নুর ফুডস হোটেলের সামনে থেকে এক ব্যবসায়ীর হোন্ডা এসপি সাইন ১২৫ সিসি চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন ভূনবীর ইউনিয়নের বাসিন্দা কবির আহমদ।
গত বুধবার রাতে মৌলভীবাজার রোডের পূবালী আবাসিক এলাকায় একটি বসতবাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা বাসার জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে একটি নতুন ল্যাপটপ, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, মূল্যবান জিনিসসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়।
এর আগেও একই বাসায় একবার চুরির ঘটনা ঘটেছিল। তখন নগদ টাকা, স্বর্ণসহ অনেক মালামাল চুরি হয়। সে সময় থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত চুরি হওয়া কোনো মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি বাসার মালিকের।
গত ২ জুলাই সন্ধায় শহরের কলেজ রোডের উদয়ন স্কুলের সামনে থেকে শ্রীমঙ্গল পৌরসভায় কর্মরত এক নারীর গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা নারীর পথরোধ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বর্ণের চেইন ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।
গত ২৮ জুন শ্রীমঙ্গল শহরের হবিগঞ্জ রোডের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এনসিসি ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয়ে সাড়ে ৩ লাখ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইকো শপের সত্ত¡াধিকারী রায়হান মিয়া শ্রীমঙ্গল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও এখনো প্রতারককে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এমন অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।
এর আগে ২০ জুন সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন জসিমের মিশন রোডের বাসা থেকে দুটি মোবাইল চোরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাংবাদিক জসিম শ্রীমঙ্গল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও এখনও মোবাইল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
সাংবাদিকের অভিযোগ পুলিশ এখনো তার চুরি হওয়া মোবাইল দুইটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। শহরে একের পর এক চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ কামাল হোসেন বলেন, শহরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বসতবাড়িতে হঠাৎ চুরি বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় আমাদের ব্যবসায়ীরা শঙ্কিত। দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমাদের কাছে যে অভিযোগগুলো আসছে, সেগুলো খুব গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সকল অপরাধীদের গ্রেফতার করতে আমাদের সিনিয়র কর্মকর্তাসহ আমরা চেষ্টা করছি। আশা করছি দ্রতই চোরদের আইনের আওতায় আনতে পারবো।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

