গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের ১৩০ নং বিধায় আব্দুল বাতেনীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে হাজিরা দিয়ে যথাযথ ছুটি ছাড়াই সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় শিক্ষক মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে সহকারী শিক্ষক আবু নাঈম মাস্টার উপস্থিতি নিবন্ধনে স্বাক্ষর করলেও তিনি বিদ্যালয়ে অবস্থান করছিলেন না।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন কার্যক্রমের পরিবীক্ষণে আসা কর্মকর্তাদের সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে ছবি তুলে পোস্ট করেছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক আবু নাঈম মাস্টার জানান, প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ইনস্ট্রাক্টর মৌখিকভাবে বলছে তাদের সাথে বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে যাওয়া জন্য। আমি স্যারদের নির্দেশে স্কুল পরিদর্শনে গিয়েছে।
তবে এ ব্যাপারে মাহফুজুর রহমান ইনস্ট্রাক্টর জানান অন্য স্কুলের শিক্ষকদেরকে নিয়ে পরিদর্শনে যাওয়ার কোন নিয়ম নেই। তবে যেহেতু আমরা স্কুল গুলো চিনি না সে ক্ষেত্রে অন্য ইস্কুলের শিক্ষক সহযোগিতা নিয়েছি। তবে স্কুলের পাঠদান রেখে কোন শিক্ষক সারা দিনের জন্য যাওয়ার নিয়ম নেই।
জানা যায়, ওই দিন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ইনস্ট্রাক্টর মাহফুজুর রহমান, উপ-পরিচালক শহিদুল ইসলাম, পিএটু উপ-পরিচালক অমৃত লাল হাওলাদার এবং পিএটু উপ-পরিচালক নারায়ণ চন্দ্র সেন উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শনের দায়িত্ব পালন করেন।
এ সময় তাদের সঙ্গে বিধায় আব্দুল বাতেনীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাঈম মাস্টারও গাজীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শনে অংশ নেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো লিখিত ছুটি গ্রহণ না করেই তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিদর্শনে যান। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। তারা বলছেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মো. শফিকুর রহমান বলেন, আবু নাঈম মাস্টার লিখিতভাবে কোন ছুটি নেননি। তবে তাকে মৌখিকভাবে ছুটি দেওয়া হয়েছিল। পরে সাংবাদিকরা জানতে চান, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী মৌখিকভাবে ছুটি দেওয়ার কোনো বিধান রয়েছে কি না। এ প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন বলেন,নাঈম মাস্টারের ছুটির বিষয়টি আমি অবগত নই বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরে জানাবো।
এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ ভূঁইয়া সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,বিদ্যালয় থেকে ছুটি না নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে পরিদর্শনে যাওয়ার কোন নিয়ম নেই। বিষয়টি আমি জানিনা বিস্তারিত জেনে আমি আপনাদেরকে আগামীকালকে জানাবো।
এ ঘটনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছুটির বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে একজন শিক্ষক কীভাবে অন্য দায়িত্বে অংশ নিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধ করা সম্ভব হবে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

