বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার রায়গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন `দুর্বার উন্নয়ন সংস্থা`।
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এবং নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রথম শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে আকর্ষণীয় স্কুল ব্যাগ বিতরণ করেছে সংস্থাটি।
রবিবার সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই সামগ্রী বিতরণ করা হয়। টেকসই উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসারে বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, দুর্বার উন্নয়ন সংস্থার এই কার্যক্রম যেন তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।
দুর্বার উন্নয়ন সংস্থার সদস্য অরুণ কুমার সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানস কুমার তালুকদার। বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন রায়গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিকাশ মণ্ডল।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সারদা বিশ্বাস, তৃষিতা মণ্ডল এবং দুর্বার উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি মুক্তি সরকারসহ অন্যান্য শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন স্কুল ব্যাগ তুলে দেন। নতুন ব্যাগ পেয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের হাসিমুখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানস কুমার তালুকদার দুর্বার উন্নয়ন সংস্থার এই মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আগ্রহ বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে শিক্ষার উন্নয়নে অবদান রাখায় আমি দুর্বার উন্নয়ন সংস্থাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতেও তাদের এ ধরনের শিক্ষাবান্ধব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশা করি।
সরকারের সহযোগিতা কামনা ও সংস্থার প্রত্যয় স্কুল ব্যাগ বিতরণের এই মানবিক উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্বার উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান মোঃ ইসমাইল হোসেন অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে সংস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আগ্রহ তৈরি করা এবং তারা যেন নিয়মিত স্কুলে আসে—সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
আমাদের সংস্থার পক্ষ থেকে এ ধরনের শিক্ষাবান্ধব ও সেবামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।তিনি দেশের টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও প্রান্তিক পর্যায়ের শিশুদের পাশে দাঁড়াতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আরও বলেন, দেশের সরকার ও বিত্তবানরা যদি আমাদের এই পথচলায় পাশে থাকেন, তবে আমরা ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে দেশের কল্যাণে আরও ভালো ভালো কাজ করতে পারব।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারের পাশাপাশি `দুর্বার উন্নয়ন সংস্থা`র মতো মাঠপর্যায়ের সংগঠনগুলোকে যদি নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়, তবে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার রোধে তা অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

