টেকসই জৈব-উপকরণ (Sustainable Biomaterials) এবং সবুজ উদ্যোক্তা কার্যক্রমে (Green Entrepreneurship) উদ্ভাবনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্মাননা পেয়েছেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের তরুণ উদ্ভাবক সাজ্জাদুল ইসলাম।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় টেকসই জৈব-উপকরণ ও সবুজ উদ্যোক্তা কার্যক্রমে উদ্ভাবন এবং বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে তাঁকে একগুচ্ছ উপহারও দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাজ্জাদুল ইসলামের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
তরুণ উদ্ভাবক সাজ্জাদুল ইসলাম শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউনিয়নের মোহাজেরাবাদ এলাকার কৃষক মো. নজরুল ইসলাম ও সাহেরা খাতুনের ছেলে। দুই ভাইবোনের মধ্যে তিনি বড়। ২০২৫ সালে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাস করেন।
২০২৪ সালে পরিত্যক্ত সবজি থেকে পরিবেশবান্ধব পলিথিন এবং কলাগাছের তন্তু ব্যবহার করে টাইলস, ঢেউটিনসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব পণ্য উদ্ভাবন করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন তিনি।
সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, ‘সম্মাননা অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার পূর্ববর্তী ও চলমান গবেষণা কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার সুযোগ হয়েছে। তাঁদের মূল্যবান দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ গ্রহণ করেছি। ভবিষ্যতে গবেষণা ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছি। এই সম্মাননার জন্য মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।’
পরিত্যক্ত সবজি থেকে পরিবেশবান্ধব পলিথিন এবং কলাগাছের তন্তু ব্যবহার করে টাইলস, ঢেউটিনসহ প্লাস্টিক, কার্বন ও সিলিকন পণ্যের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারযোগ্য পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন পণ্য উদ্ভাবনের মাধ্যমে ১৮ বছর বয়সী সাজ্জাদুল ইসলাম সম্প্রতি জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
গত ১৪ জুন বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সাজ্জাদুল ইসলাম। এ সময় তিনি ‘পচা ও পরিত্যক্ত সবজি থেকে পচনশীল পলিথিন এবং কলাগাছের তন্তু ব্যবহার করে ঢেউটিন, টাইলস ও বোর্ড তৈরির প্রযুক্তি ও সম্ভাবনা’ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। দেশীয় কাঁচামালনির্ভর পরিবেশবান্ধব এসব উদ্ভাবনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সাজ্জাদুল ইসলামের উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করেন।
এ সময় স্টার্টআপ ও প্রয়োজনীয় ফান্ডিং-সংক্রান্ত দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রিহান আসিফ আসাদের ওপর অর্পণ করা হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কার্যক্রমে সাজ্জাদুল ইসলামকে যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। দেশে প্রতিষ্ঠিত ইকো-ফাইবার কোম্পানিগুলো পরিদর্শন এবং বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটে পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়।
এ ছাড়া গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর প্রধান সমন্বয়ক ড. এস. এম. আব্দুল আওয়াল এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিহান আসিফ মাহমুদকে গবেষণা কার্যক্রমে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে গত ১৪ জুলাই সাজ্জাদুল ইসলামের প্রতিষ্ঠান বেনোভা বায়োমেটারিয়ালস (Banova Biomaterials)-কে স্টার্টআপ অনুদানের চেক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বেনোভা বায়োমেটারিয়ালস একটি উদ্ভাবনী গ্রিন-টেক স্টার্টআপ, যা কলাগাছের বর্জ্যসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক কাঁচামাল ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব বায়োম্যাটেরিয়াল এবং টেকসই পণ্য উন্নয়নে কাজ করছে। প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ্য, জৈব-বিয়োজ্য ও টেকসই সমাধান তৈরি করাই প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

