নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে দায়িত্ব পালনকালে মারা যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি সাদিক হোসেনের (শুভ) মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মীরা। পরে জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নিয়ে গিয়ে দাফন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের মণ্ডলপাড়া ফায়ার স্টেশনে সাদিকের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নিয়ে সহকর্মীরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে ঢাকায় ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মরদেহ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নেওয়া হয়। বিকেলে সেখানে জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
সাদিক হোসেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কুমড়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আশরাফ আলীর ছেলে। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে রাষ্ট্রীয় পদক হাতে নিয়ে বিলাপ করছেন তাঁর মা লিলি বেগম।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ ফায়ারঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে জেটির সামনে কচুরিপানা পরিষ্কারের সময় নিখোঁজ হন সাদিক। প্রায় আট ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের আরেক ডুবুরি নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর তিনি ফায়ার সার্ভিসে যোগ দেন। নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর ফায়ার সার্ভিসে ডুবুরি হিসেবে কর্মরত ছিলেন সাদিক। বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানে সাহসিকতা ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে গত ১৯ মে তিনি প্রেসিডেন্ট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (সেবা) পদক লাভ করেন।
রাষ্ট্রীয় পদক হাতে নিয়ে সাদিকের মা লিলি বেগম বলেন, “আমার সাদিককে দুই বছর আগে বিয়ে দিয়েছি। বউয়ের নাম সাদিয়া খাতুন। ওরা খুব সুন্দর সংসার করছিল। আমার ছেলের মতো ছেলে আর একটাও নাই। এত ভালো ছেলে কীভাবে মারা গেল?”
তিনি আরও বলেন, “তিন দিন আগেও ফোনে কথা হয়েছিল। সাদিক বলেছিল, ‘মা, আমি আগামী রোববার বাড়ি আসব। আমার কাছে কোনো টাকা নেই, আব্বাকে পাঁচ হাজার টাকা পাঠাতে বলো।’ ওর বাবা টাকা পাঠিয়েছিলেন।”
প্রশিক্ষিত ডুবুরি হওয়া সত্ত্বেও পানিতে ডুবে সাদিকের মৃত্যুর ঘটনায় সংশয় প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁর মা।
প্রতিবেশী ও গোয়ালন্দ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ফজলুল হক বলেন, “সাদিকের মতো ভালো ছেলে এ অঞ্চলে খুব কমই দেখা যায়। আমরা তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। সরকার যেন তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ায়।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

