মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার শুভাশতডাঙ্গা গ্রামে টিনের চালে মেহগনি গাছের ফল পড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত আমিরুল মোল্লা (৫০) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন দিন পর মারা গেছেন। এ ঘটনার পর এলাকায় ৮ থেকে ১০টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আমিরুল মোল্লার সঙ্গে প্রতিবেশী আবুজার মণ্ডল, তবিবর মণ্ডল ও ফরিদ বিশ্বাসের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই (মঙ্গলবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে টিনের চালে মেহগনি গাছের ফল পড়াকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আবুজার মণ্ডল, তবিবর মণ্ডল, ফরিদ বিশ্বাস, ফিরোজ বিশ্বাস ও মিরাজ বিশ্বাস দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমিরুল মোল্লার বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন।
আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত দেড়টার দিকে শ্যামলী ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নিহতের ছোট ভাই আব্দুল মোল্লা বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, আমিরুল মোল্লার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর রাতে কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বাড়িতে নয়, বরং ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন কয়েকটি পরিবারের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় সালামত বিশ্বাস, মোসলেম বিশ্বাস, আবুল বিশ্বাস ও হাসান বিশ্বাসসহ অন্তত ৮ থেকে ১০টি পরিবারের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন (পিপিএম) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া বলেন, “হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

