জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, “জুলাইয়ের আগে যা দেখেছিলাম, জুলাইয়ের পরেও তা-ই দেখি। প্রত্যেকটি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি থেকে শুরু করে কে স্কুল পরিচালনা করবে, কে টেন্ডার পাবে, কে ইটের টাকা খাবে—এসব নিয়ে নতুন করে একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা কাজ শুরু করেছে। আমরা তাদের পেছনে রাজনীতি করতে পারি না।”
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা সদরে এনসিপির এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, “৫৩ বছরে গড়ে ওঠা একটি পচে যাওয়া ব্যবস্থা দুই বছরে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে আমরা যদি সচেতন থাকি, তাহলে আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে অবশ্যই পরিবর্তন সম্ভব হবে, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, “পরিবর্তন ঘর থেকেই শুরু হতে হবে। পরিবর্তন আনতে হলে গণমাধ্যমেও পরিবর্তন প্রয়োজন। আমরা দেখি, জেলা-উপজেলা থেকে সাংবাদিকরা বিভিন্ন তথ্য পাঠান; কিন্তু কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনেক সময় শুধু সরকারের প্রশংসাসূচক খবরই গুরুত্ব পায়, সমালোচনামূলক সংবাদ পায় না। যে দল ক্ষমতায় থাকে, তারা গণমাধ্যমে নিজেদের লোক বসায়। এভাবে গণমাধ্যম, প্রশাসন ও ব্যবসা যদি দলীয়করণ হয়, তাহলে এ দেশের প্রকৃত পরিবর্তন কখনো সম্ভব নয়।”
সমাবেশে আগামী গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এনসিপির চেয়ারম্যান প্রার্থী আতিকুর রহমানের পক্ষে সমর্থন চেয়ে তিনি বলেন, “আমরা কৃষক পরিবারের সন্তান। রাজমিস্ত্রির ছেলে হাসনাত আব্দুল্লাহ যদি সংসদে যেতে পারেন, হাতিয়ার ২৫ বছরের তরুণ আবদুল হান্নান মাসউদ যদি সংসদ সদস্য হতে পারেন, তাহলে আমাদের আতিক ভাইও উপজেলা চেয়ারম্যান হতে পারবেন।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিক মুজাহিদ, যুগ্ম সদস্য সচিব সাঈফ মুস্তাফিজ, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, জাতীয় নারীশক্তির সভাপতি মনিরা শারমিন এবং এনসিপির রাজশাহী মহানগর সভাপতি মোবাশ্বের আলী।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

