টানা বৃষ্টিতে কাদা-পানিতে তলিয়ে গেছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া গোলচত্বর। সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণকাজের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করে রাখা এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এখন প্রতিটি পদক্ষেপ যেন ঝুঁকিপূর্ণ। গর্তে জমে থাকা পানির নিচে কোথায় রাস্তা, কোথায় খাদ—তা বোঝার উপায় নেই। ফলে প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাজারো পথচারী ও যানবাহনের চালককে।
শনিবার (১১ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, গোলচত্বরের চারপাশে সড়কজুড়ে কাদা, পানি ও ভাঙাচোরা অংশ। যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করায় দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। অনেক মোটরসাইকেল ও ইঞ্জিনচালিত সিএনজিচালিত যান গর্তে পড়ে হেলে যাচ্ছে। পথচারীদের কেউ জুতা হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে চলছেন, আবার কেউ নিরাপদ পথের খোঁজে ঘুরপথ ব্যবহার করছেন।
ইঞ্জিনচালিত সিএনজিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে চলাচল এখন দুঃস্বপ্ন। গাড়ি নিয়ে বের হলে কখন গর্তে পড়ে বিকল হবে, সেই ভয় নিয়েই চলতে হয়। যাত্রীরাও অভিযোগ করেন, কিন্তু আমাদের তো বিকল্প পথ নেই।”
মোটরসাইকেলচালক মো. মঞ্জরুল আলম বলেন, “পানি জমে থাকায় গর্ত বোঝা যায় না। একটু অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা ঘটে। কয়েকদিন আগে আমার মোটরসাইকেলও পিছলে পড়ে যায়।”
পথচারী মোছা. রহিমা বেগম বলেন, “হাসপাতালে যেতে এই রাস্তাই ব্যবহার করি। বৃষ্টির দিনে কাদা এড়িয়ে চলার কোনো সুযোগ থাকে না। কাপড়-জুতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পড়ে যাওয়ার ভয়ও থাকে।”
কলেজশিক্ষার্থী মো. সিমান্ত তালুকদার বলেন, “প্রতিদিন ক্লাসে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাস্তার কারণে সময়মতো পৌঁছাতে পারি না। বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়।”
পৌরসভার বাসিন্দা ও যুবদল নেতা মো. আশিকুর রহমান প্লাবন বলেন, “ধানগড়া গোলচত্বর রায়গঞ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কসংযোগগুলোর একটি। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক কাদা ও পানিতে তলিয়ে যায়, সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করা।”
ধানগড়া গোলচত্বর রায়গঞ্জ উপজেলার অন্যতম ব্যস্ততম সড়কসংযোগ। এই পথ দিয়েই উপজেলা পরিষদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, থানা, ফায়ার সার্ভিস, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। প্রতিদিন শত শত ইঞ্জিনচালিত সিএনজি, বাস, ট্রাক, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন এ সড়ক ব্যবহার করে। ফলে নির্মাণকাজের ধীরগতির প্রভাব পড়ছে পুরো উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকে অগ্রগতি খুবই ধীর। বর্ষা মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক খুঁড়ে রেখে দীর্ঘ সময় ফেলে রাখায় জনভোগান্তি চরমে উঠেছে। দ্রুত কাজ শেষ না হলে বর্ষার বাকি সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “ধানগড়া গোলচত্বর এলাকায় সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনসাধারণের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

