টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সড়ক, খেলার মাঠ, পুকুর-ডোবা, খাল-বিল, নদী-নালা এবং নিচু এলাকার বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। উজানের ঢলে তিস্তা নদীর চরাঞ্চলের হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। একই সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে উপজেলার ওপর দিয়ে টানা ভারী বর্ষণ শুরু হয়। এর ফলে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার নিম্নাঞ্চলের সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ এবং বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ কাঁচা সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চণ্ডীপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের তিস্তা নদীসংলগ্ন চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজারো চরবাসী পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং অনেক এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
শান্তিরাম ইউনিয়নের বাসিন্দা শামীম মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা সড়কে মাটি না দেওয়ায় সড়কগুলো নিচু হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে পানি জমে যায়। শান্তিরামের ফোরকানিয়া থেকে ক্ষুদিরাম এবং ভাটিয়াপাড়া মোড় থেকে ঝিনিয়া সড়ক বর্তমানে হাঁটুসমান পানির নিচে থাকায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
চণ্ডীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মেহেদী মোস্তফা মাসুম বলেন, ভারী বর্ষণের পাশাপাশি অনেক স্থানে পানি নিষ্কাশনের কালভার্টের মুখ বন্ধ করে বসতবাড়ি নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর বুধবার ফারাজীপাড়া এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি। তিনি বলেন, শুধু জনপ্রতিনিধি নয়, জলাবদ্ধতা নিরসনে সবাইকে সচেতন ও সহযোগিতাপরায়ণ হতে হবে।
বেলকা এমসি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের মাঠে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। এতে খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। মাঠে জরুরি ভিত্তিতে মাটি ভরাটের প্রয়োজন রয়েছে। একইভাবে বেলকা মজিদপাড়া স্কুল মাঠেও কোমরসমান পানি জমেছে।
পৌরসভার কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা হাসান শুভ বলেন, পৌর এলাকার অধিকাংশ ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যাচ্ছে।
এইচএসসি পরীক্ষার্থী সায়েম মিয়া বলেন, বৃষ্টিতে ভিজেই পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে। তাই অতিরিক্ত পোশাক সঙ্গে নিয়ে যেতে হচ্ছে।
হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মশিউর রহমান বলেন, এটি বন্যা নয়; টানা বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকায় পানি জমে প্লাবিত হয়েছে। পানি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হবে বলে মনে হচ্ছে না। ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের পানিবন্দি পরিবারের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে নিচু এলাকায় পানি জমেছে। বিশেষ করে পানি নিষ্কাশনের কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

