আষাঢ়ের চিরাচরিত রূপ নিয়ে দেখা দিয়েছে রিমঝিম বৃষ্টি। তবে টানা কয়েকদিনের এই অবিরাম বর্ষণ মাদারীপুর জেলাবাসীর জন্য স্বস্তির চেয়ে অস্বস্তিই বয়ে এনেছে বেশি।
রিমঝিম বৃষ্টির চাদরে ঢাকা পড়েছে পুরো জেলা, যার ফলে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ। রিকশাচালক, ভ্যানচালক এবং দিনমজুরদের আয় একপ্রকার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
৬ই জুলাই সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে মানুষ ও যানবাহনের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। শহরের পুরান বাজার, ইটেরপুল ও শকুনী লেকপাড় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সুনসান নীরবতা। কিছু রিকশা ও ইজিবাইক চলাচল করলেও চালকরা চড়া ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ সাধারণ যাত্রীদের।
মাদারীপুর সদরের রিকশাচালক রহমত আলী (৪৫) তাঁর ক্ষোভ ও আকুতি প্রকাশ করে বলেন:
"সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে রাস্তায় কোনো মানুষ নাই। দুইটা ট্রিপ মারছি মাত্র। এভাবে সারাদিন বৃষ্টি থাকলে রাতে ঘরে চাল কেনার টাকা থাকবে না।"
ড্রেনেজ ত্রুটি ও কর্দমাক্ত গ্রামীণ সড়ক
টানা বৃষ্টিতে শহরের নিচু এলাকা এবং কিছু প্রধান সড়কের পাশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে পানি নামতে দেরি হওয়ায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং অফিসগামীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া গ্রামীণ অঞ্চলের কাঁচা রাস্তাগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় উপজেলাগুলোর সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে ধীরগতি।
টানা এই বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে জেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা। চলমান পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে ভিজেই তাদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাশাপাশি হুট করে আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে জেলাজুড়ে ঘরে ঘরে জ্বর ও ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। শহরের বিভিন্ন মোড়ের ফার্মেসীগুলোতে ওষুধ কেনার জন্য সাধারণ মানুষের কিছুটা ভিড় লক্ষ করা গেছে।
এদিকে বৃষ্টির অজুহাতে কাঁচাবাজারে সবজির দাম কিছুটা চড়া বলে দাবি করছেন ক্রেতারা। খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে বিক্রেতাদের দাবি ভিন্ন। তাঁদের মতে, বৃষ্টির কারণে আড়ত থেকে পণ্য খালাস ও পরিবহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।
জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই রিমঝিম বৃষ্টি আরও দু-এক দিন স্থায়ী হতে পারে। সেই সাথে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকবে এবং কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষকে ঘরের বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

