নওগাঁর নিয়ামতপুরে সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৭১তম দিবস উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা ১১ টায় উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
নিয়ামতপুর উপজেলা আদিবাসী পরিষদের সভাপতি স্বপন পাহানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুর্শিদা খাতুন।
সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় আদিবাসী যুব পরিষদ কমিটি নকুল পাহান।
নওগাঁ জেলা জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অজিত কুমার মুন্ডার সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজাউল করিম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান মন্ডল, নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইসাহাক আলী সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা তজিয়া রবিদাস, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাষ হেমব্রোম, সদস্য নবদ্বীপ লাকড়া, কেন্দ্রীয় আদিবাসী যুব কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাবিত্রী হেমব্রম,
নওগাঁ জেলা জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক বাসন্তী টপ্য, নিয়ামতপুর উপজেলা আদিবাসী নারী পরিষদের আহবায়ক শুভ্রা এক্কা, রসুলপুর ইউনিয়ন আদিবাসী পরিষদের সভাপতি মধু সরদার, নিয়ামতপুর উপজেলা আদিবাসী যুব পরিষদের আহবায়ক প্রসেনজিত বারোয়ার, উপজেলা আদিবাসী পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক রপন মুন্ডা, পাড়ইল ইউনিয়ন আদিবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রেন্টু সরেন সহ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সুধীজন।
সভায় বক্তারা বলেন, ১৮৫৫ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহ ছিল উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ গণঅভ্যুত্থান। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, জমিদারি শোষণ এবং মহাজনী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাঁওতাল জনগোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ঐতিহাসিক আন্দোলন গড়ে তোলে। বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন সিধু মুর্মু, কানু মুর্মু, চাঁদ মুর্মু ও ভৈরব মুর্মু। তাঁদের আত্মত্যাগ আজও শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামের অনুপ্রেরণা হয়ে রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, সাঁওতাল বিদ্রোহের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমির অধিকার, সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানে শহীদ সাঁওতাল বীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

